প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। স্পষ্টভাষী ও সত্যকথনের এক মূর্ত প্রতীক। কে কী ভাবলো, ক্ষমতাসীনদের রোষাণলে পড়ে পরিস্থিতি কী হতে পারে-এমনসব ভাবনা যখন অনেককেই হিসেবী কথা বলতে বাধ্য করতো; তখনই যেন জ্বলে উঠতো তাঁর কণ্ঠ। মাওলানা ভাসানীর মতো বাস্তব ও হক কথায় অকুতোভয় এই সাংবাদিকের অনেক বক্তব্যই রীতিমতো ঝড় তুলেছে রাজনীতির ময়দানে। সাংবাদিক জগতের এই দিকপালের এমনই কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো টাইম নিউজ বিডির পাঠকদের জন্য।
[b]নির্বাচন হবে রিমোট কন্ট্রোলে:[/b]
২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এবিএম মূসা বলেন, টেলিফোনে অনেকেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। আমি তাদেরকে বলি কুষ্টিয়া থেকে যদি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করা যায় তাহলে আগামী নির্বাচন হবে রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে।
[b]মিডিয়া আছে বলেই বিরোধী দল আছে: [/b]
২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি ফেনী প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বিরোধীদলের সমালোচনা করে এবিএম মূসা বলেন, দেশে আজ কোনো বিরোধী দল নেই, বিরোধী দল হচ্ছে মিডিয়া। মিডিয়া আছে বলে বিরোধী দল আছে।
[b]গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকার প্রধানমন্ত্রী:[/b]
২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর চ্যানেল আই'র টকশো 'আজকের সংবাদপত্র'- অনুষ্ঠানে এবিএম মূসা বলেন, কথা বলতে গেলে আবার আমাকে কে কোন বিপদে ফেলেন কে জানে। বস্তুত ঢাকা শহর এখন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। এ কারণে আমি এখন নতুন নাম দিয়েছি গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকার প্রধানমন্ত্রী। আগে তিনি (শেখ হাসিনা) সারা দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এখন শুধু ঢাকার প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন। মন্ত্রীরা সব ঢাকার মন্ত্রী হয়ে গেছেন। মন্ত্রীদের ঢাকার বাইরে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।
[b]এরশাদ 'র'-এর পোষ্যপুত্র: [/b]
২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর মহাখালীস্থ ব্র্যাক সেন্টারে 'বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক এক আলোচনায় এবিএম মূসা বলেন, আমরা এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি। সরকার বহাল থাকার পরও সাতক্ষীরা স্বাধীন হয়ে গেছে। এরশাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব আসলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন ভালো কথা। তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন তাও ভালো কথা। কিন্তু তার এরশাদের সঙ্গে দেখা করার কারণটা কী? এরশাদ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা- রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) এর পোষ্যপুত্র।
[b]'হাঁসজারুর' সরকার:[/b]
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে ‘হাঁসজারু’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন মূসা বলেন, বর্তমান সরকারের আদল হয়েছে হাঁসজারুর মতো। মূসা ভগ্ন শরীর ও রোগশয্যায় ঘুমভাঙা চোখের পাতা মেলে দেশের কথা জানতে চান। খোঁজ নেন রাজনীতিরও। শিশুর সারল্যে হাসেন। নির্ভুল উচ্চারণ করেন সুকুমার রায়ের বিখ্যাত আবোল তাবোল থেকে ‘খিচুড়ি’ ছড়ার কয়টি লাইন— ‘হাঁস ছিল, সজারুও (ব্যাকরণ মানি না)/, হয়ে গেল ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না।’তারপর স্বভাবসুলভ রসিকতায় সরকার নিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
[b]ঢাকা, টিআই, ৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]
এবিএম মূসার ঝড়তোলা যত কথা
বাস্তব ও সঠিক কথা বলতে অকুতোভয় এই সাংবাদিকের অনেক কথাই রীতিমতো ঝড় তুলেছে রাজনীতির ময়দানে। সাংবাদিক জগতের এই দিকপালের এমনই কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হলো টাইম নিউজের পাঠকদের জন্য।
শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার আলোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ সরকার দেবে না। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আমরাও চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়: প্রতিমন্ত্রী
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—ইতিহাসের এই সত্য মুছে ফেলা যাবে না।
গ্রেপ্তার ২ নওগাঁয় শেখ হাসিনা আসবে বলে মাইকিং
নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইকিং করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
আ’লীগের নেতা-কর্মীরাও মদ খায় সব বাটপারের কারখানা: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র শেখ হাসিনাই কারচুপি করে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। শেষমেশ দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। আমরা এ ধরনের রাজনীতি করিনি; ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, অথচ তাদের জাবেদ নামের এক এমপির বিদেশেই সাড়ে চারশত বাড়ি রয়েছে।’















