রোববার (১৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে রুবেল বলেন, তার বয়স ৩০ বছর। শহীদ মামুন মিয়া সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তিনি বলেন, ১১ জুলাই দুপুর ২টার দিকে প্রতিবেশী নিরবের মাধ্যমে জানতে পারেন মামুন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিরব তাকে দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করতে বলেন এবং জানান, মামুন নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে রয়েছেন।
হাসপাতালে গিয়ে রুবেল দেখতে পান, তার ভাইকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মাথার পেছন দিক থেকে গুলি লেগে বাম চোখের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।’ পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ১৯ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শহীদের ভাই আরও বলেন, মামুনের রুমমেট পারভেজের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ১৮ জুলাই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় মামুন বাইরে বের হন। সে সময় তিনি রামপুরার ওয়াবদা রোডের ওমর আলী লেনে থাকতেন।
রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় হঠাৎ ৩-৪টি গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে সেখানে আসে। সড়কের মাথায় অনেক লোকজন ছিলেন এবং মামুনও তাদের সামনে ছিলেন। তখন বিজিবি ও পুলিশ গুলি ছুড়লে সবাই দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন মামুন।
তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মামুনকে তার রুমমেট পারভেজ রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে মুগদা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে মুগদা হাসপাতালে তার অবস্থা দেখে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রুবেল। পরে পারভেজ ও তার সহযোগীরা মামুনকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যান।
রুবেল বলেন, পত্রপত্রিকা ও স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিজিবির তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর রাফাত, এডিসি রাশেদুল ও ওসি মশিউর জড়িত।
এ সময় তিনি মামুনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন। কথা বলার একপর্যায়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এস