তিনি আজ লক্ষ্মীপুরে শহর শাখার ১৫ নং ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ওয়ার্ড সভাপতি মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের নেতা মাওলানা শামসুল হুদা, নাসির উদ্দিন ও মাওলানা জুবায়ের প্রমূখ।
ড. রেজাউল করিম বলেন, কোন ভুখন্ডে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১০.৭৪ শতাংশ। ফলে আমরা রীতিমত পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছি। ইতোমধ্যেই দেশের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজধানী ঢাকা নগরীর বায়ুদূষণ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাতাসে কার্বনের হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এমতাবস্থায় পরিবেশ বিপর্যয় থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে সারাদেশেই ব্যাপকভিত্তিক বনায়নের কোনই বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের প্রত্যেককে বৃক্ষনিধনের বিপরীতি বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। তিনি দেশের পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহবান জানান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট-বাকশালী আওয়ামী লীগ সাজানো, পাতানো ও ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রের সকল অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিয়ে গত প্রায় ১৬ বছর ধরে অপশাসন ও দুঃশাসন চালিয়েছে। তারা দেশকে মেধা ও নেতৃত্বশূন্য করার জন্যই কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে জাতীয় নেতাদের একের পর হত্যা করেছে। ফ্যাসীবাদীরা জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারবিভাগ ও শিক্ষা প্রশাসন সহ রাষ্ট্রীয় অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে দীর্ঘ মেয়াদে দেশে অপশাসন- দুঃশাসন চালিয়ে দেশকে প্রকারান্তরে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের লজ্জাজনক পতন হয়েছে। তাই আগস্ট বিপ্লবকে অর্থবহ ও টেকসই করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি অতিদ্রæততার সাথে জুলাই সনদ ঘোষণা, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণহত্যাকারীদের বিচার দৃশ্যমানের পর অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহবান জানান।
এইচআর