এ ছাড়া হত্যার পর মরদেহ গুমের ঘটনায় প্রত্যেক আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দুই মামলার সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। পাশাপাশি আসামিরা এ মামলায় এর আগে যতদিন হাজতে ছিলেন, সেই সময় তাদের কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—হাসান শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)।

আসামিদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। অন্য তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা হাসান শেখ। এরপর তিনি নিখোঁজ হন।

হাসান কৃষিকাজের পাশাপাশি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ীভাবে কাজ করতেন। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে ঝাউখোলা গ্রামের আজিজ খানের আখখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ ১৪ মে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।

পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই মিরাজুর রহমান তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হাসানের স্ত্রী ফরিদা বেগম, শাহজাহান মাতুব্বর, ফারুক বিশ্বাস ও চান্দু শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, হাসানের স্ত্রী ফরিদা একটি মিলে কাজ করতেন। তার উপার্জনের টাকা হাসান নিয়ে নিতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। পাশাপাশি স্ত্রীর অন্যদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি হাসান জেনে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে শাহজাহান মাতুব্বর ও তার সহযোগীরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়। হাসান তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে ফরিদার প্ররোচনায় শাহজাহান তার সহযোগীদের নিয়ে হাসানকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

রায়ের বিষয়ে বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু বলেন, স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও তার উপার্জনের টাকা স্বামীর কাছে থাকার বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার তথ্য পুলিশকে জানিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আদালতে অভিযোগের বিষয়গুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এস