শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো পাওয়া যায়নি।

যেভাবে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ি এলাকায় বসবাস করত সে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন।

সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। পাশাপাশি পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্বজনেরা বিভিন্নভাবে তাকে খুঁজতে থাকেন।

সিসিটিভিতে শেষবার দেখা

অপ্রতিমকে খুঁজতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমকে এক কিশোরের সঙ্গে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি এবং সে মাথায় ক্যাপ পরেছিল। ফুটেজ পর্যালোচনার পর তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশকে জানানো হয়।

পরে শনিবার কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিই হত্যাকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো বিষয় এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

জঙ্গলে যেভাবে মিলল মরদেহ

শনিবার বেলা ১১টার দিকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে নিখোঁজ অপ্রতিমের বিষয়ে জানতে পেরে তাঁরা ঘটনাস্থলে ফিরে যান এবং শিশুটিকে অপ্রতিম হিসেবে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলা ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে।

আইফোন কি হত্যার কারণ?

অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে এটি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়। কীভাবে অপ্রতিমের মৃত্যু হয়েছে, কেন তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল এবং হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। মৃত্যুর কারণ ও ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

তদন্তে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে

অপ্রতিম শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়।

রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভিতে তাকে এক কিশোরের সঙ্গে দেখা যায়।

শনিবার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন এখনো উদ্ধার হয়নি।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে একজন কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এমএম