শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সয়দাবাদ এলাকায় লংমার্চে অংশগ্রহণকারী জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়, ন্যক্কারজনক ও অগণতান্ত্রিক। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাড়িবহর সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার পর জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর জোহরের নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হলে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। অপর জামায়াত নেতা নুরুন্নবীও হামলায় আহত হয়েছেন।
আব্দুস সবুরের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আহত নেতাকর্মীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মতের ভিন্নতার কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া, হামলা চালানো কিংবা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, তথা সভা-সমাবেশ করা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। এতে যারা বাধা দেয়, তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট মহলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। হামলা, সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক মতকে দমন করা যায় না। জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
সিরাজগঞ্জের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে হামলাকারীরা যেন আইনের আওতা থেকে রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
এমএম





