লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠেছে। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে মনগড়া ফল প্রকাশের প্রতিবাদে এবং বিতর্কিত তালিকা বাতিলের দাবিতে বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একজন সুপারভাইজার এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে শত শত শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী ও নারী আবেদন করেন। যথানিয়মে তারা পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠে, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা না থাকা এবং পরীক্ষায় খারাপ ফল করেও রাজনৈতিক প্রভাবে অনেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি এবং একই ওয়ার্ড থেকে তিনজনের উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের সুপারিশে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হয়নি।

জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াগাঁও গ্রাম থেকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারী সুলতান আহমেদ ও বিউটি বেগম পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অথচ অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া নয়াগাঁও গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে জুলি বেগমকে ৪৩ নম্বর ক্রমিকে চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও তালিকায় নাম আসার ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিকার চেয়ে গত ১০ আগস্ট জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী প্রার্থী সুলতান আহমেদ।

জগন্নাথপুর পৌরসভা এলাকার আবেদনকারী আমিনুল হক সিপন বলেন, অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি, আইসিটি সার্টিফিকেট এবং দুটি শুমারির অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের প্রাধান্য দিয়ে বিতর্কিত তালিকা তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

অনুরূপ অভিযোগ উঠেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলাতেও। শিমুলবাঁক ইউনিয়নের সরদারপুর গ্রামের আবেদনকারী রাজু মিয়া বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তাকে বাদ দিয়ে অদক্ষদের উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু জগন্নাথপুর বা শান্তিগঞ্জ নয়, তাহিরপুরসহ জেলার সব উপজেলাতেই এমন অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জুলি বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলেন, তিনি পরীক্ষা দিয়েছেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

জগন্নাথপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, তদন্তে এ ধরনের দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দলীয় প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জের সচেতন নাগরিক ও সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা প্রকাশিত বিতর্কিত তালিকা অবিলম্বে বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এমএম