বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবারের সময় হলেই শিশুদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উৎসাহ। নির্দিষ্ট সময়ে পরিবেশন করা হয় খাবার। এরপর একসঙ্গে বসে খাবার খায় শিক্ষার্থীরা। এতে তাদের ক্ষুধা মেটার পাশাপাশি সহপাঠীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু রয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়া হয়। প্রতিদিন দুটি করে আইটেম পরিবেশন করা হয়। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, কলা, বিস্কুট ও দুধ। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুলচন্দ্র রায় বলেন, মিড ডে মিল চালুর পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যগত উন্নতিও লক্ষ করা গেছে। এ প্রকল্প প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার পেয়ে তারা আনন্দিত। সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার খেতে তাদের ভালো লাগে। বিদ্যালয়ে খাবারের ব্যবস্থা থাকায় নিয়মিত স্কুলে আসার আগ্রহও বাড়ছে। খাবার খাওয়ার পর ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে বলেও জানায় তারা।
শিক্ষকদের মতে, ক্ষুধামুক্ত পরিবেশে শিশুরা পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী হতে পারে। বিদ্যালয়ে খাবারের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হয়। এ ছাড়া একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
তবে এ কার্যক্রমের সুফল ধরে রাখতে খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করা জরুরি। খাবার পরিবেশনের আগে ও পরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু রাখা গেলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হবে।
এমএম










