স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে খালের কচুরিপানার মধ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে কচুরিপানা সরিয়ে একটি ব্যাগের মধ্যে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় রাইয়ান তার বাবা রাসেল খানের পাশে ঘুমিয়ে ছিল। শিশুটির মা রুমানা বেগম ঘরের বাইরে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘরে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাড়ির আঙিনা, পুকুর, ডোবা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মা রুমানা বেগম কলাপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় তাঁর ভগ্নিপতি আল আমিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়। এর আগে ওই দিন দুপুরে ঘুটাবাছা গ্রাম থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয় নিয়ে আল আমিন ও শিশুটির বাবা রাসেল খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে শিশুটিকে অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তার মৃত্যুর কারণ কী এবং এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা কতটুকু, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিখোঁজের প্রায় দুই দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। এ ঘটনায় ঘুটাবাছা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ শিশু রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আল আমিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এস














