বুধবার জেলার সবগুলো ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল অকটেন নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন মালিকেরা।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ জ্বালানি মজুূদের বিরুদ্ধে মনিটরিং শুরু করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ফিলিং স্টেশন মালিকেরা বলছেন- জ্বালানি তেলের সরবরাহ নাই। তাই তারা বিক্রি করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে ফিলিং স্টেশনে সাইনবোর্ড ঝুলাতে হয়েছে।
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেত্রকোণায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। জেলার কোনো ফিলিং স্টেশনেই নেই পেট্রোল ও অকটেন।
ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান ফরসাল মিয়া। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করি। পেট্রোল না থাকায় মোটরসাইকেল চালাতে পারছি না। এতে আয় ইনকাম বন্ধ। এভাবে আর কয়দিন চললে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আলীমুল রাজী গজনবী বিপ্লব বলেন, পেশাগত কারণে সংবাদ সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেলই আমাদের ভরসা। এখন পেট্রোল-অকটেন না পেয়ে মোটরসাইকেল বাসায় ফেলে রেখেছি। দূরে কোথাও কোনো দুর্ঘটনার খবর পেলেও তথ্য সংগ্রহ করতে যেতে পারছি না। সরকার বলেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণে তেলের মজুদ রয়েছে। কিন্তু আমরা যে পাম্পেই যাচ্ছি সেখানেই বলছে জ্বালানি নেই। এখন আমরা কী করব এটি বুঝতে পারছি না। আমাদের তো এই মোটরসাইকেল ছাড়া বিকল্প আর কোনো ব্যবস্থা নেই।
জেলা শহরের বাসিন্দা আরমান মিয়া বলেন, গতকাল থেকে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও এক লিটার পেট্রোল পাচ্ছি না। মোটরসাইকেলে গিয়ে শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চাকরি করি। এখন জ্বালানি না থাকায় কর্মস্থলে যাওয়া কষ্ট হচ্ছে।
জেলা শহরের পারলা এলাকার মোনাকো ফিলিংস স্টেশনের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানান, সাধারণত আমাদের এই ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা থাকে। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে এই চাহিদা প্রায় তিনগুণ হয়ে গিয়েছে। যেমন গতকালকে আমাদের প্রায় নয় হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি হয়েছে। আজকের সকালে আমাদের মজুদ শেষ হয়েছে। জ্বালানি পুনরায় আমাদের এখানে পৌঁছানোর পর আমরা আবার জ্বালানি সরবরাহ শুরু করব। তবে সেটা কখন হবে এটা এখনো বলতে পারছি না।
এদিকে আজ সকাল থেকেই নেত্রকোনার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল গুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। টিকিট কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত টিকিট। অনেক পরিবহন নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে, আবার যানবাহন সংখ্যাও কমে গেছে। এতে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, লেগুনা করে শহরমুখী হচ্ছে মানুষ।
এ বিষয়ে জেলা ফিলিং স্টেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ মীর বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ নেই, তাই বাধ্য হয়ে পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সরবরাহ পেলে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেল মজুদ করে রাখা হয়েছে কিনা, সেটি গুরুত্বের সাথে তদারকি করা হচ্ছে। সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে। আশা করছি দ্রুত সংকট সমাধান হবে।
এমএম