এসব কোরবানির পশু কিনতে প্রতিদিন খামারে ভিড় করছেন আশপাশের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা বলছেন, হাটের ভিড় এড়াতে ও সুস্থ-সবল পশু কেনার জন্য তারা সরাসরি খামারে এসেছেন। এছাড়া শেষ সময়ের দিকে হাটে গরুর দাম চড়া থাকে। তাই ঈদের বেশ কিছুদিন আগেই পছন্দের পশু কিনতে খামারে আসা।

মিজানুর রহমান নামে এক পশু ক্রেতা বলেন, বাজারে গরু কিনতে গেলে গরু ভালো দামে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দালালদের চক্করে পড়তে হয়। এছাড়া অনেক খাটুনিও হয়। এ জন্য খামারে গরু কিনতে আসছি।

এদিকে, খামারিরা বলছেন গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় তারা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া ভারত থেকে যদি চোরাইপথে গরু আসে, তাহলে আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

সোহাগ মিনা নামে এক খামারি বলেন, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ হলে গরুর সঠিক মূল্য পাব আশা করি। তিনি আরও বলেন, খৈল, ভুসি, খড়, খুদ, চিটাগুড়, ঘাসসহ সব জিনিসেরেই দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি কেজি গমের ভূসি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, চালের কুড়া কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ভুট্টা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঘাসের আঁটি ২০ টাকা। এ ছাড়া বিছালি কাউন প্রতি ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ বেশি। খরচ অনুযায়ী দাম না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হব।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ ঘিরে এ বছর জেলায় ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৪ হাজার ৮৭৪ টি ষাঁড়, ৬৩৯ টি বলদ, ৫ হাজার ১৪১ টি গাভী, ২৪ হাজার ৭৮৮টি ছাগল, এবং ৫৫টি ভেড়া। অপরদিকে জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩টি। উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪টি। এ পশুগুলো অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে।

নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে অনেক খামারি গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। আমরা পূর্বেই খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। যাতে তারা কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণ না করে। এ বছর জেলার ৩টি উপজেলায় ১০টি কোরবানি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত পশু শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে।

এস