সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন। এর আগে রোববার রংপুর ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ দল তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের তয়েজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (২৮)।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই হামিদুল ইসলাম বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে মায়ের কাছ থেকে তার ১৩ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে নিয়ে যান। পরে আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

সন্তানকে ফিরে পেতে শিশুটির মা রোমানা খাতুন (২২) আদালতে আবেদন করেন। পরে ২৭ আগস্ট শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

এরপর রোববার সকাল ১০টার দিকে সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার এলাকা থেকে হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া থেকে মোর্শেদা খাতুন ও জেসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জেসমিনের কাছ থেকে শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়।

পরে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন জানান, হামিদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজের সন্তানকে বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন।

এস