বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা। কেবল জরুরি প্রয়োজনে অল্প কিছু মানুষ বাইরে বের হয়েছেন। কারফিউয়ের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের সহিংস পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে কারফিউ জারি করা হয়েছে। জনসাধারণের চলাচল সীমিত থাকবে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।

এর আগে, বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জের চৌরঙ্গী মোড়ে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তখনই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি আরও অবনত হওয়ায় কারফিউ জারি করা হয়।

হামলার মুখে এনসিপির শীর্ষ নেতারা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন, যেখান থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ছাত্র ও জনতা বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদকারীরা সড়ক অবরোধ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।

এনএইচ