শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের ঢোলার হাট ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ফলাফল কারসাজির মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লাকে পরাজিত করা হয়েছিল। আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, জনসমর্থন দেখে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা করছেন। তবে কোনো বাধা বা হুমকি জনগণকে দমাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এবারের নির্বাচন মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নির্বাচন।
কৃষকদের সার না পাওয়ার জন্য দুর্নীতি ও দলীয়করণকে দায়ী করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সাত মাসের মধ্যেই বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ও সারের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের এখনো সারের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিনির্ভর দেশে সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন ছাড়া কৃষকের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সারের ডিলার নিয়োগে ঘুষ ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ডিলারশিপ পেতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সার মজুত ও সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠতে পারে। তাঁর অভিযোগ, সরকার একদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে, অন্যদিকে দলীয় সংসদ সদস্যদের আত্মীয়স্বজনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রী, ভাই, ছেলে ও পুত্রবধূর ডিলার নিয়োগ পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ২৯ অক্টোবর দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী-নির্বিশেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে দুপুরে ভুল্লী উপজেলার শুখান পুকুরী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ-সুবিধা, অধিকার ও মর্যাদা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে বোরকা পরতে বাধ্য করা কিংবা তাঁদের বাড়িঘর দখলের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্ন করলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘না’ বলে জবাব দেন বলে সভার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ড. হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো ব্যক্তিরাই অতীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পদ দখল ও বাড়িঘর ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনে বিশ্বাস করে না; বরং রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার ও মর্যাদায় বিশ্বাস করে।
আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার পাশাপাশি নিজের ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও নাগরিকদের দায়িত্ব। যাতে কেউ কারসাজির মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শুখান পুকুরী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন ধর্ম নারায়ণ মাস্টার, অতুল চন্দ্র অধিকারী, মানিক রায় ও অখিল রায়। বক্তারা বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করেননি; বরং তাঁদের বিপদে মানবিক সহায়তা দিয়েছেন।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এস
















