শুক্রবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিহত হন।

জানা যায়, শুক্রবার ভোররাতে জেয়ালা উত্তরখোলা সরকারি বিলের বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডলকে আটক করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘেরের কর্মচারী গফফার, বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, হাবিবুর গাজী, ইব্রাহিম খাঁ, সমর ঘোষসহ ১৫ থেকে ২০ জন মিলে তাকে মারধর করেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় কোপ দেওয়া হয় এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। পরে সকাল ৮টার দিকে তাকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী পার্থ মণ্ডল ও প্রকাশ মণ্ডলসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, ক্ষিতিশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দুই পা ও হাত ভাঙা এবং মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের ক্ষত দেখা গেছে বলে তারা দাবি করেন।

নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিল ও খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শুক্রবার ভোররাতে তিনি বিলে মাছ ধরার জন্য গিয়েছিলেন। পরে সকালে স্বামীকে মারধরের খবর পেয়ে বিলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। তিনি আমাকে মারধরের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছেন। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।’

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষিতিশ মণ্ডলকে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল; এর মধ্যেই তিনি নিহত হন।’

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসিন আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এস