সোমবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি রাজপাড়া থানায় আটক ছিলেন। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
নিহত চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মো. শাহিনুজ্জামাম নামের ওই ব্যক্তি নিয়মিত ডা. কাজেমকে বাসা থেকে চেম্বারে নিয়ে যেতেন এবং বাসায় রেখে আসতেন। এ রাতেও তিনিই মোটরসাইকেল ড্রাইভ করছিলেন।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মো. শাহিনুজ্জামামকে আটক করে পুলিশ। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সোমবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি রাজপাড়া থানায় আটক ছিলেন।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে মো. শাহিনুজ্জামাম বলেন, আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম। কাজেম স্যার পেছনে বসা ছিলেন। একটি সিলভার কালারের মাইক্রোবাস আকস্মিকভাবে আমাদের গতিরোধ করে। আমরা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাই। তখন স্যারের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তারা।
শাহিন আরও বলেন, পড়ে গিয়ে আমিও আঘাত পেয়েছি। হামলাকারীরা মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ছিল। আমি উঠে দাঁড়ানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনায় আমরা কাজ শুরু করেছি। থানায় মামলা রুজু হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, সোমবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার সময় ওই চিকিৎসকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বাদী হয়ে আরএমপির রাজপাড়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নগরীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার শেষ করে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন ডা. গোলাম কাজেম আলী। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন মো. শাহিনুজ্জামান। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তারা নগরীর বর্নালী মোড় থেকে ১০০ গজ দূরে পৌঁছলে সিলভার রঙয়ের একটি হায়েস মাইক্রোবাসে তিনজন ব্যক্তি এসে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তাদের একজন প্রথমে ডা. কাজেমের পায়ে আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান।
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এবার তারা তিনজন মিলে ডা. কাজেমের বুকের বাম পাশে হৃদপিণ্ড বরাবর উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। এসময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার। পরে মোটরসাইকেল চালক শাহিনুজ্জামান ওই চিকিৎসককে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলেও মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনায় আমরা কাজ শুরু করেছি। থানায় মামলা রুজু হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ডা. গোলাম কাজেম আলীকে নগরীর মহিষবাথান গোরস্থানে দাফন করা হবে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
তার সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোমবার (৩০ অক্টোবর) বাদ জোহর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ডা. কাজেমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, এছাড়া নগরীর উপশহর কড়ইতলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিকাল সোয়া ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় জানাজা। এরপর নগরীর মহিষবাথান গোরস্থানে ডা. কাজেমকে দাফন করা হবে।
এনএইচ





