স্থানীয়রা জানান, শামীম নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ মরদেহটি কবর থেকে তুলে দরবারে দাফনের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ কারণে দাফনের পর কিছুদিন কবরস্থানে পুলিশ পাহারাও বসানো হয়েছিল।
তবে শুক্রবার রাতে কোনো একসময় কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
শামীমের ভাই মো. ফজলুর রহমান সান্টু বলেন, রাতের অন্ধকারে কারা এবং কীভাবে কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু জানতেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি দেখতে পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে দরবারে পুনরায় দাফনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের একটি বড় দল দরবারে হামলা চালিয়ে শামীমকে তাঁর কক্ষ থেকে বের করে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তাকে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। হামলার সময় দরবারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন ১২ এপ্রিল বিকেলে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল রাতে শামীমের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এস