২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাভাবিক দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যান ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। ৫ আগস্ট মিরপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী রিতা আক্তার (১৭) নিহতের ঘটনায় মাসউদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় হত্যামামলা হয়েছে।
বুধবার রাজধানী ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কার্যালয়ে ‘কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয়’শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান উপস্থিত ছিলেন, ফরীদ উদ্দীন মাসউদের শিক্ষাবোর্ড জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশের সেক্রেটারি মুফতি মোহাম্মদ আলী।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মুফতি মোহাম্মদ আলী ফরীদ উদ্দীন মাসউদের খুবই আস্থাভাজন। ফরিদ উদ্দিন মাসউদের সব কাজ করে বর্তমানে তিনিই করে থাকেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়ও তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করতেন। বর্তমানে তিনি কওমি আলেমদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। সবার সাথে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে গত ১১ জুলাই মধুপুর পীর সাহেবের মাদরাসায় খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটির বৈঠকে অংশ নেন শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দেওয়া মুফতি মো. রুহুল আমীন, ফরীদ উদ্দীন মাসউদের আস্থাভাজন মুফতি মোহাম্মদ আলী ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পুত্র মাওলানা আনাস মাদানী। তারা সবাই আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, কোনো অপরাধ, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সভায় গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’-এর সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ ও মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।
এমএম