রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় চিকিৎসক মাশরুখ মেহজাবিন কনার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীর শশুড় টিপু সুলতান ও শাশুড়ি জেসমিন আরা পলাতক। তাদের গ্রেফতার করার ব্যাপারে থানা পুলিশের নেই কোনো ভাবনা। এমনকি তারা কোথায় আছেন তা জানে না পুলিশ।

শুক্রবার ধানমন্ডি থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ তথ্য জানা যায়। তবে মামলা দায়েরের পর মেহজাবিনের স্বামী হুমায়ুন সুলতানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ধানমন্ডি থানার ইন্সপেক্টর(তদন্ত) হেলাল উদ্দিন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, মামলা রেকর্ডের পর থেকে নিহত মেহজাবিনের শশুড় সাবেক সংসদ সদস্য টিপু সুলতান ও হলি ফ্যামিলি হসপিটালের গাইনী চিকিৎসক শাশুড়ি জেসমিন আরা পলাতক রয়েছেন। তাদের কোনো খোঁজ মিলছে না। এমনকি তার ছেলে গ্রেফতারের পরও যোগাযোগ করেন নি।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহজাবিন হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন স্বামী হুমায়ুন সুলতান। তিনি বলেছেন, ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি মেহজাবিন আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ধানমন্ডি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক টাইমনিউজবিডিকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে বিশেষ আদালতে স্বামী হুমায়ুনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হলে আদালত শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য্য করেছেন। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মামলার ঘটনায় বাকি দুই আসামীকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেহজাবিন আত্মহত্যা করেছেন না হত্যার শিকার হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এই বিষয়টিকে আপাতত অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

মামলার ঘটনায় মেহজাবিনের শশুড় টিপু সুলতান ও শাশুড়ি জেসমিন আরাকে গ্রেফতারের বিষয়টি আপাতত ভাবছে না পুলিশ। তবে মেহজাবিন হত্যার বিষয়ে প্রমাণ মিললে মামলা অনুযায়ী বাকী আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।

অন্যদিকে মেহজাবিনের লাশ ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি যশোর সদরের আরিফপুরে নেয়া হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নিহতের বাবা নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লাশের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ‍দুপুর আড়াইটার দিকে ধানমন্ডির ৬ নাম্বার রোডের ১৪ নাম্বার বাসার ৩য় তলার ফ্লাট থেকে চিকিৎসক মেহজাবিনকে অবচেতন অবস্থায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এঘটনায় নিহতের শশুড় বাড়ির লোকজনের দাবি মেহজাবিন বার্থরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, মেহজাবিন আত্মহত্যা করার মানুষ না। তাকে শশুড়-শাশুড়ি মিলে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন। এঘটনায় নিহতের পিতা ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের শশুড়-শাশুড়ি ও স্বামীকে আসামী করা হয়েছে।

জেইউ/এসএইচ