নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে নিয়ে ‘বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ’নামে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে দেশের তিনটি বিভাগীয় শহরে বড় ধরণের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ। শুধু তাই নয় সম্প্রতি ভিআইপি ব্যক্তি ও স্থাপনার উপর হামলারও পরিকল্পনা ছিল তাদের।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি)মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজধানীর টিকাটুলি ও উত্তরা এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রফিক আহমেদ ওরফে সাদিক (৩৬), মো. উমর ওরফে ফয়জুল ওরফে রবি (২৫), নাদিম আহমেদ ওরফে সুমন (৩০) ও সালাহউদ্দিন আহমেদ (২৯)।

এসময় তাদের কাছ থেকে একটি সাব-মেশিন গান, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোমা তৈরির বিস্ফোরকদ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরকসহ বোমা তৈরির অন্তত ৫৫ ধরনের উপকরণ।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, এর আগে বোমারু মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে ছিল বোমা নিক্ষেপে পারদর্শি। এবার উমর নামে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বোমা তৈরিতে দেশের সেরা পারদর্শি বলে নিজেই দাবি করেছে।

তিনি বলেন, গত ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আবু জাফর ওরফে মুফতি আবু সাঈদের নাম বার বার উঠে এসেছে। তিনি এখন জেলে থাকায় তার অবর্তমানে কাজ করছেন তারা। জাফরের পাঠানো নির্দেশনায় রাজধানীর ওয়ারিতে ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বোমা তৈরির দুটি ল্যাব গড়ে তোলে।

এই ল্যাবে প্রধান ক্যামিস্ট হিসেবে কাজ করতেন প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র উমর। এ কাজে সব ধরণের উপাদান সরবরাহ করতো সালাহউদ্দিন। অর্থের যোগান দিতো সাজিদ। তবে অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেন তিনি।

উমরকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করে আসছে হরকাতুল জিহাদ(হুজি)। তার বাসা থেকে পাকিস্তানের তৈরি মাওলানা জাফর ওরফে আবু সাঈদের ব্যবহৃত একটি সাব মেশিনগান উদ্ধার করা হয়।

তবে তিনি বলেন, অর্থের যোগান দাতা সম্পর্কে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাফরের তত্ত্বাবধানে এই গ্রুপটি গড়ে উঠলেও সে জেলে যাওয়ার পর এখন দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা রফিক। তিনি ফতুল্লার ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষকতা করেন এবং আমতলী মসজিদের ঈমাম।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, হুজি’র আগস্ট মাসে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আগস্টে নিরাপত্তা জোরদার থাকায় মাওলানা আবু সাঈদের নির্দেশনায় আগস্টের পরে হামলার পরিকল্পনা করতে বলা হয়। সে মোতাবেক অক্টোবরের যে কোনো সময় হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

তিনি বলেন, দেশের মোট তিনটি বড় শহর ঢাকা রাজশাহী ও চট্টগ্রামের জনাকীর্ণ স্থানে মেস কিলিংয়ের পরিকল্পনা ছিল।

মনিরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ভারতের বর্ধমানে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএসআইয়ের সঙ্গে তাদের যোগযোগ আছে কি না জিজ্ঞাসাবাদে তা জানার চেষ্টা চলছে।

জেইউ