পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার একটি তিনতলা বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মদ, গাঁজা, ইয়াবা, কনডম ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আফগান নাগরিকও রয়েছেন।
অভিযান হওয়া বাড়িটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Airbnb-এর মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। বাড়িটি পরিচালনা ও দেখাশোনার জন্য একজন কো-হোস্টও নিয়োগ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাড়িটির পাঁচটি কক্ষ বিভিন্ন ব্যক্তি ও দলের কাছে ভাড়া দেওয়া হতো। কখনো একটি কক্ষ একাধিক ব্যক্তি মিলে বুকিং নিতেন। অতিরিক্ত অতিথিদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নিবন্ধন ফি নেওয়া হতো বলেও জানা গেছে।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ডিজে পার্টি চলত। মাসে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো এবং প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে মাদক সেবন ও অন্যান্য অনিয়মের কর্মকাণ্ড চলার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা দ্রব্যের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলছে।
এ ঘটনায় বাড়িটির মালিকের সম্পদের উৎস এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে এ ধরনের আয়োজন হয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আগে আসেনি কেন—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকিরের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, তিনি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিতেন এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য কিছু নিয়মও নির্ধারণ করা ছিল। জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে এবার বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে মাদক আনা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড হবে, তা তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন তিনি।
তার বক্তব্য, বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্য অসৎ ছিল না। অতীতেও কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার প্রকৃত চিত্র, আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থাপনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এনএইচ
















