ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুদি দোকানের মালিক রবিন রাংসা জানান, ঘটনার সময় আলিফ মুঠোফোনে কারও সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে দোকানে আসেন এবং ছয়টি বেনসন সিগারেট কেনেন। যাওয়ার সময় ফোনটি দোকানে ফেলে যান এবং তা নিতে আবার ফিরে আসেন। ঠিক তখন ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী দুই যুবক দোকানে এসে ২০ টাকা দিয়ে দুটি সিগারেট চান। তাদের একজনের পরনে ছিল লুঙ্গি, অন্যজনের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। আলিফ ফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হতে পা বাড়াতেই যুবকদের একজন পেছনে সরে যান। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ হয়। আতঙ্কে তিনি ভেতরে ঢুকে পড়েন।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। প্রায় তিন বছর আগে বিরিশিরি এলাকার আনন্দিতাকে বিয়ে করে তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে শ্বশুরবাড়িতেই থাকছিলেন। তার তিন বছরের মেয়ে প্রান্তি সাংমা ও দেড় বছরের ছেলে সাফুয়ান রয়েছে।
নিহতের ভায়রা ভাই জেনুইন চাম্বুগং জানান, সাংবাদিকতা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না আলিফ ফকির। সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারি বা অবৈধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে তার কাছে সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এলেও তিনি তা সরাসরি নাকচ করে দিতেন। কয়েক মাস আগেও তার ওপর একই ধরনের হামলা হয়েছিল, সেবার তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে ঘটনার রাতে আশপাশের প্রায় সবাই কয়েকশ মিটার দূরের একটি বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলেন, ফলে এলাকাটি অনেকটাই ফাঁকা ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর পুরো বিরিশিরি এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী কোনো প্রতিবেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন একযোগে কাজ করছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এমএম
















