কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজ (১২ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে সকাল ১০টা ৮মিনিটে আপিল বিভাগে এই শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে।
আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।
খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির মাঝখানে বিরতি শেষে আবারও আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, তারা মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার জামিন চাইছেন। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তিনি পঙ্গু অবস্থায় চলে গেছেন। হয়তো ছয় মাস পর তার অবস্থা আরো খারাপ হবে।
শুরুতে আদালতের কাছে খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীনকে বিএসএমএমইউর দেয়া স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন পড়তে দেয়া হয়।
প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বক্তব্য দেন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, “এই আদালত দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই আদালতের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার জামিন চাইছি। খালেদা জিয়া আদালতে গেলেন হাঁটতে-হাঁটতে। একজন সুস্থ মানুষ ছিলেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।”
আদালত তখন জয়নুল আবেদীনকে মেডিকেল প্রতিবেদন পড়ে শোনাতে বলেন।
জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, “আমি ডাক্তার না। তবু যেটুকু বুঝি, এই মেডিকেল প্রতিবেদন বলছে, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। মানবিক কারণে আমরা খালেদা জিয়ার জামিন চাচ্ছি। তার অবস্থা এমন যে তিনি পঙ্গু অবস্থায় চলে গেছেন। হয়তো ছয় মাস পর তার অবস্থা আরো খারাপ হবে। আর কোথাও গিয়ে লাভ নেই। এ জন্য আমরা বারবারই আদালতের কাছে আসছি, বলছি, মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হোক।”
আদালত প্রথমে খালেদা জিয়ার আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। আপিল বিভাগ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর দুপুরে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
এমবি





