ঢাকায় কোনো নতুন শিল্প কারখানা নয়। নতুন কোন শিল্প কারখানা, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় করতে হলে ঢাকার বাইরে করতে হবে। আগামীতে এখানে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ-২ এ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর সংসদীয় কমিটির সঙ্গে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরের বাহিরে শিল্প-কারখানা করা হলে তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং ঢাকা শহরে শিল্প-কারখানা করার ক্ষেত্রে সরকার কঠোর হবে।
জেলা বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের কেন্দ্রে পরিণত করা হবে জেলাকে। আগামীতে জেলা বাজেটে ৫০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ দেয়া হবে।
জমির দাম পুন:নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার ঢাকাসহ সব জায়গায় জমির দাম পুন:নির্ধারণ করা হবে। যাতে করে কর বৃদ্ধি করা যায়। কারণ, জমির দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেলেও করের হার বাড়েনি। গত বাজেটে কাঠা প্রতি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে এবার দাম কত বাড়বে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্নুজান সুফিয়ানের একটি প্রস্তাবনার উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, পাটের পিছনে পড়ে থেকে লাভ নেই। সরকারের কাছ থেকে পাটে কোনো বরাদ্দ পাওয়ার কথা নয়। প্রতি বছর পাটে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। অথচ কোনো লাভ হচ্ছে না, সুতরাং আমাদের পুরানো কথা ভুলে যেতে হবে।
শিক্ষাখাতে বাজেটের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে কখনো বাজেট কমে না। একইভাবে এলজিইডি,বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে। তবে এবার শিক্ষাখাতে অন্যখাতের চেয়ে কম হলেও অন্যবারের তুলনায় বাজেট বাড়বে। বিদ্যুতে বাজেট কম থাকবে।
বাজেটের আকার সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের আকার হবে ২৫০ হাজার কোটি টাকার। আকার বড় বলে অনেকে সমালোচনা করলেও চাহিদার ব্যাপারে কেউ কিছু বলছে না। এখন আমাদের চাহিদা বেড়েছে সেটা মাথায় রাখতে হবে। এছাড়া এডিপি বাড়বে এবং করের আওতা বৃদ্ধি পাবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বশীলরা নদী খননে জোর দেয়া, ভূমিদস্যুদের কবল থেকে নদী খাল রক্ষা করা, মফস্বল ও গ্রামের ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। এছাড়া কুইক রেন্টালে প্রয়োজনের অধিক বাজেট থাকার পরও চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ার সমালোচনা করেন।
আইন ও সংসদ বিষয়ক কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, কিছু বিষয়ে সরকারকে কঠোর হতে হবে। ভূমি দস্যুতা বন্ধ করতে হবে। যারা হাজার হাজার একর জমি নিয়ে বসে আছে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। হয় শিল্পায়ন কর, নয় জমি ছেড়ে দাও। আমরা দ্বিগুন দাম দেব। পুঁজিবাজারের টাকা বিদেশে পাচার বন্ধ করতে হবে। কারণ, অনেকে দেখি মালয়েশিয়া, কানাডা ও অন্যান্য দেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করছেন।
আলোচকরা শিল্প কারখানাগুলোকে ঢাকা থেকে রংপু- দিনাজপুরের মত এলাকায় স্থানান্তরের দাবি জানান। তারা বলেন, চল্লিশ লাখের অধিক লোক গার্মেন্টেসে কাজ করে। তাই কারখানা ঢাকার বাইরে না নিলে ওভারব্রিজ করে লাভ হবে না। ঢাকাতে বসবাস করা কঠিন হতেই থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আফসারুল আমিন, শ্রম কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মন্নুজান সুফিয়ান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, ব্যাংকের গর্ভনর ড.আতিউর রহমান প্রমুখ।
[b]ঢাকা, ২৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]
অর্থনীতি
'ঢাকায় কোনো নতুন শিল্প কারখানা নয়'
ঢাকায় কোনো নতুন শিল্প কারখানা নয়। নতুন কোন শিল্প কারখানা, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় করতে হলে ঢাকার বাইরে করতে হবে। আগামীতে এখানে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত





