বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে লুৎফর রহমান বাদলকে অপসারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণ দেখিয়ে তাকে অপসারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভর্নর স্বাক্ষরিত অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও কোম্পানি সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মুনিরুজামান বলেন, লুৎফর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লুৎফর রহমান বাদল আইএফআইসি ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি ব্যাংকটির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটিরও চেয়ারম্যান। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন তিনি ব্যাংকটির নিয়মিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন না। এতে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।
জানা গেছে, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে লুৎফর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে গাজীপুরে মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মির্জা আব্বাসের পুনঃনিয়োগ আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা থাকায় এবং নিয়মিত ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণ দেখিয়ে তার আবেদন বাতিল করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ক্রিকেট নিয়ে বাদল-পাপন দ্বন্দ্ব
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও দলটির চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদলকে প্রিমিয়ার ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করতে গত বছর সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন ক্লাব এসোসিয়েশনের নেতারা। ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর দুপুরে মিরপুর শের-ই- বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাদলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করেন তারা।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর বোর্ড সভাপতিকে একটি চিঠি পাঠান বাদল। চিঠিতে মাঠ ও আম্পায়ারসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এর পরদিনই প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে রূপগঞ্জ ম্যাচ হারলে তিনি খারাপ আম্পায়ারিংয়ের অভিযোগ তোলেন। বিসিবির সভাপতি নাজমুল হক পাপনেরও কড়া সমালোচনা করেন।
বোর্ডের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ক্লাবের কর্ণধার হুমকি দেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার। আর তার দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সবাই জড়িত এমন অভিযোগ করে বাদল সে সময় বলেন, বোর্ড প্রেসিডেন্ট যতই বড় বড় কথা বলুন, উনি নিজে এই ম্যানিপুলেশনের সঙ্গে জড়িত। উনার যে একটা কর্মচারী আছে, মল্লিক (বিসিবি পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক), তাকে দিয়ে সব করানো হয়। সে-ই নিজে সব হ্যান্ডেল করে, ফিকশ্চার থেকে শুরু করে মাঠ, আম্পায়ার, বোর্ডের সবকিছু সে করে। আর এখানে একজন আছে, সুজন (খালেদ মাহমুদ), আমি মনে করি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কলঙ্ক সে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সব পদে সে আছে’বোর্ড পরিচালক, ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, এক দলের কোচ, আরেক দলের ম্যানেজার…শুধু রুস্তমের (বিসিবির অফিস সহকারী) পদেই সে নাই। তো এদের কাছ থেকে কী আর আশা করা যায়!’
বাদলের এই বক্তব্য পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বোর্ড প্রধান পাপন।
হুমকি দিয়ে পাপন সেসময় বলেন, ‘কেউ যদি ক্রিকেটের বিষ ফোঁড়া হয়, তবে তাকে ছেটে ফেলা হবে।
ক্লাবগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর শের-ই- বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিসিডিএম’র চেয়ারম্যান আ জ ম নাসির উদ্দিন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সভাপতি লুৎফর রহমান বাদলকে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি জানান।
কেএইচ





