আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, গম, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের দামই ২০১৪ সালে কমবে। পাশাপাশি কমে আসবে সার ও তুলার দামও। একই প্রবণতা দেখা যাবে শিল্পের কাঁচামাল, বিশেষ করে রাবার, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন মৌল ধাতুর ক্ষেত্রেও। এমন পূর্বাভাসই দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির এ পূর্বাভাস সঠিক হলে চলতি বছর স্থানীয় পণ্য বাজারেও স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশে মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এসব পণ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরও এসব পণ্য আমদানি হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের। অর্থবছরটিতে দেশের মোট আমদানি ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত মাসে প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।
তাতে বলা হয়, সম্প্রতি বিশ্বে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিজাত পণ্যের দাম ২০১৪ সালে আড়াই থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমবে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমবে চালের দাম ৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন চাল ৫০৫ দশমিক ৯ ডলারে বিক্রি হলেও এ বছর তা কমে দাঁড়াবে ৪৬০ ডলার। গমের দাম ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে হবে টনপ্রতি ৩০০ ডলার।
বিশ্ববাজারে গত বছর এ খাদ্যপণ্য বিক্রি হয়েছিল প্রতি টন ৩১২ দশমিক ২ ডলারে। ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিনের দাম ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে দাঁড়াবে প্রতি টন ১ হাজার ৩০ ডলার; আগের বছর যা ছিল ১ হাজার ৫৭ ডলার। তবে পাম অয়েলের দাম এ বছর বাড়তে পারে। ভোজ্যতেলটির দম ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে চলতি বছর প্রতি টন ৮৯০ ডলারে পৌঁছতে পারে। এছাড়া চিনির দাম ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে দাঁড়াবে প্রতি টন ৩৮০ ডলার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সার কারখানা চলতি বছর পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও কিছুটা কমে আসবে। এতে সারের দামও আন্তর্জাতিক বাজারে কমে আসবে। সারের দাম কমার এ প্রভাব কিছুটা হলেও কৃষিজাত পণ্যের ওপর পড়বে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, সারের মধ্যে ট্রিপল সুপার ফসফেটের (টিএসপি) দাম ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩২০ ডলারে দাঁড়াবে। আগের বছর এ সারের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৮২ দশমিক ১ ডলার। ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেটের (ডিএপি) দাম ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ৩৯০ ডলার, ২০১৩ সালে যা ছিল ৪৪৪ দশমিক ৯ ডলার।
এছাড়া ইউরিয়া সারের দাম ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে হবে ৩২৫ ডলার। আগের বছর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছিল ৩৪০ দশমিক ১ ডলারে।
বিশ্ববাজারে সারের দাম কমারও একটা সুফল বাংলাদেশ পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। করণ গত অর্থবছরও বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করতে হয়েছে ১১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের।
শিল্পপণ্যের দামও এ বছর নিম্নমুখী থাকবে বলে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, চলতি বছর বিশ্বে তুলার উৎপাদন কমলেও চাহিদা কমবে তার চেয়েও বেশি। চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ আগের বছর মজুদ করা তুলা ও সুতা এ বছর ব্যবহার করতে পারে। এতে পণ্যটির চাহিদা কমে আসবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম ২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ কমে দাঁড়বে প্রতি টন ১ হাজার ৯৫০ ডলার। আগের বছর এর দাম ছিল ১ হাজার ৯৯০ ডলার। আর গত অর্থবছরে দেশে তুলা আমদানির পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের।
এছাড়া মৌল ধাতু হিসেবে অ্যালুমিনিয়ামের দাম চলতি বছর ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে প্রতি টন ১ হাজার ৮০০ ডলারে দাঁড়াবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি কপারের দাম ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ৭ হাজার ১৫০ ডলারে। তবে অপরিবর্তিত থাকবে আকরিক লোহার দাম। আগের মতোই প্রতি টন আকরিক লোহা ১৩৫ ডলারে বিক্রি হবে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রায় ২৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আকরিক লোহা ও মৌল ধাতু আমদানি করে বাংলাদেশ।
কমোডিটি মার্কেট আউটলুক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎপাদন বাড়ায় রাবারের দামও এ বছর কমে আসবে। ২০১৩ সালে প্রতি টন রাবার ২ হাজার ৭৯০ ডলারে বিক্রি হলেও এবার হয় ২ হাজার ৭০০ ডলারে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কমবে পণ্যটির দাম।
[b]ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসএমআর[/b]