ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত ও ইউক্রেন থেকে সরকারিভাবে পণ্য আমদানির চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি দেশ দুটির সরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি মসলা, সূর্যমুখী তেল, আটা, গম, ভুট্টা, হলুদ, মটর, গুঁড়ো দুধ কিনে তা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
আগামী রমজানের আগেই এসব চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে টিসিবি। ইতিমধ্যে চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও টিসিবির পরিচালকসহ মোট দুজন শিগগিরই ইউক্রেনে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। চুক্তিগুলো হলে টিসিবির বিক্রির তালিকায় আরো বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যোগ হবে।
সূত্র জানায়, ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তিটি করা হচ্ছে বেশ কিছু কৃষিজাত পণ্য আমদানির উদ্দেশ্যে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সূর্যমুখী তেল। দেশের বাজারে চড়া দামে এ তেল বিক্রি হচ্ছে। ইউক্রেন
থেকে আমদানির পর বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দরে বিক্রি করলেও বাড়তি মুনাফার সুযোগ রয়েছে টিসিবির জন্য। একই অবস্থা গুঁড়ো দুধের ক্ষেত্রেও।
টিসিবি ইউক্রেনের স্পেকাগ্রো থেকে টিসিবি সরাসরি সূর্যমুখী তেল, আটা, গম, ভুট্টা, হলুদ, মটর, গুঁড়ো দুধ ও চিনিসহ অন্য কৃষিজাত পণ্য আমদানির পর বাজারজাত করবে। বাজারে এসব পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে বেশ কিছু পণ্যের দেশীয় দরে ফারাকও রয়েছে। তাই টিসিবির মাধ্যমে আমদানির পর সরবরাহ করা সম্ভব হলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ভারত ও ইউক্রেনের সঙ্গে স্বাক্ষর করা চুক্তির মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এরপর চুক্তি দুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই মেয়াদের জন্য নবায়ন হবে। তবে কোনো পক্ষ চাইলে নবায়নে লিখিত আপত্তি জানিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
টিসিবি মূলত তেল, চিনি ও মসুর ডাল নিজস্ব ডিলারের মাধ্যমে ও খোলা ট্রাকে বিক্রি করে থাকে। তবে রজমান মাসে সংস্থাটির পণ্য তালিকায় ছোলা ও খেজুরও যোগ হয়।
কয়েক মাস ধরে দেশে যখন পেঁয়াজ সংকট দেখা দিয়েছিল, ওই সময় পেঁয়াজও বিক্রি করেছে সংস্থাটি। এ দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হলে টিসিবির পণ্য বিক্রির তালিকায় মসলা, সূর্যমুখী তেল, আটা, গম, ভুট্টা, হলুদ, মটর ও গুঁড়ো দুধ যোগ হবে।
[b]ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসএমআর[/b]