কুষ্টিয়ায় বিনা চাষে সরিষা আবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। এ পদ্ধতিতে চাষ করে তিন ফসলি ধানি জমি থেকে বাড়তি ফসল হিসেবে বিপুল পরিমাণ সরিষা উৎপাদন হচ্ছে এখানে। আরও বৃহৎ পরিসরে এই পদ্ধতিতে সরিষা চাষ করে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগ পর্যন্ত জেলায় বিপুল পরিমাণ জমি অলস পড়ে থাকে। কয়েক বছর আগে এই সময়টা কাজে লাগিয়ে বাড়তি ফসল হিসেবে বিনা চাষে সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

এই পদ্ধতি এখন কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

উপজেলার বিত্তিপাড়া, সোনাইডাঙ্গা, উজানগ্রাম, মধুপুর, আবদালপুর, হরিনারায়ণপুরসহ অধিকাংশ গ্রামের ধানি জমি এখন দৃষ্টিনন্দন হলুদ সরিষা ফুলে ছেয়ে আছে। অল্প কদিন বাদেই শুরু হবে সরিষা কাটার কাজ। বিত্তিপাড়ার কৃষক হারুনুর রশীদ জানান, আমন ধান কাটার ১৫ দিন আগে খেতে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। পরে ধান কেটে নিলে সরিষা গাছ সতেজ হয়ে ওঠে। আরেক চাষি মনিরুল জানান, আমন কাটার পর জমি জো হতে ১০-১২ দিন কেটে যায়।

এরপর জমি চাষযোগ্য করতে ১০-১২ দিন চলে যায়। ফলে চাষ করে সরিষা বুনলে সরিষা তুলে আর বোরো আবাদ সম্ভব হতো না। এ ছাড়া বিঘাপ্রতি জমি চাষের খরচও পড়ে যায় হাজার টাকার ওপরে। তাই বিনা চাষে সরিষা আবাদ করায় চাষের খরচ বেঁচে যাচ্ছে, উৎপাদন খরচও কমে আসছে।

একই এলাকার কৃষক হাফিজ জানান, এই পদ্ধতিতে সরিষা চাষে প্রতি বিঘায় মাত্র ১ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে প্রতি বিঘায় সরিষা পাওয়া যায় ৪ মণ। যার বাজার মূল্য ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।

সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আসারুল হক জানান, এই পদ্ধতিতে সরিষা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষকরা দিন দিন বিনা চাষে সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। তিনি বলেন, আগামীতে জেলার সব তিন ফসলি ধানি জমি বিনা চাষে সরিষা আবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এমএম