দেউলিয়া হয়ে যাওয়া জাহাজ কোম্পানি হানজিন শিপিং লিমিটেডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের পাওনা প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। পাওনা আদায়ে বন্দরে পড়ে থাকা হানজিনের কনটেইনার নিলামে তুলে বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা এখন আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের কেন্দ্রীয় জেলা জজ আদালত হানজিন শিপিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করেন। আদালত দেউলিয়া ঘোষণার পাশাপাশি হানজিনের সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারের ঋণ পরিশোধের পদক্ষেপের বিষয়েও আদেশ দেন।
বর্তমানে বন্দর জলসীমায় হানজিনের দুটি জাহাজ এবং বন্দর চত্বরে হানজিনের মালিকানাধীন ১ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার আটকা রয়েছে।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, হানজিনের দুটি জাহাজের মাশুল বাবদ প্রায় দুই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বন্দরের। এ ছাড়া হানজিনের কনটেইনার ওঠানো-নামানো এবং রাখার ভাড়া বাবদ গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাওনা ছিল ৩১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রতিদিন কনটেইনার রাখার ভাড়া বাবদ ৪০ লাখ টাকা যুক্ত হচ্ছে। এ হিসাবে এখন পর্যন্ত বন্দরের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা।
বন্দর পর্ষদ সদস্য জাফর আলম বলেন, হানজিনের পাওনা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। তিনি বলেন, পাওনা আদায়ে প্রথমে হানজিনের কনটেইনার নিলামে তুলে বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতা থাকায় এখন আদালতের আদেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে কর্ণফুলী গ্রুপের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ‘হানজিন শিপিং বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে হানজিন শিপিং। কোম্পানির চট্টগ্রাম অফিসে এখন মাত্র একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন নুর আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, হানজিনের পতনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইস্পাত পণ্য আমদানিকারকেরা। প্রায় ৭০০ কনটেইনার পণ্য বিভিন্ন বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আনতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ মাশুল গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। 

নাজিব