আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে হতে যাচ্ছে ৯ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার-২০১৫। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এ শো বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় আসর বলে জানান আয়োজকরা।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন- এর বাংলাদেশ শাখার আয়োজনে ‘ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিরাপদ থাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পুরণে পোল্ট্রি শিল্পের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটোবল বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে মূল বক্তব্য তুলে ধরেণ ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন- এর বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মসিউর রহমান।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের এ আয়োজনটি ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি ২ বছর পর পর আয়োজন করে আসছে। পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলোনায় এবারের আয়োজনটি হবে বেশি আকর্ষণীয়। এবারের শোতে থাকছে ২৯৭টি ষ্টল। অংশ নিচ্ছে ১৪৭ টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। শো’র পাশাপাশি থাকবে সেমিনার। যেখানে দেশি-বিদেশি ৪৭ টি টেকনিক্যাল পেপারের মাধ্যমে পোল্ট্রি শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শূণ্য থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩৮.৭ শতাংশ খর্বাকৃতির, ৩৫.১ শতাংশ কম ওজনের এবং ১৬.৩ শতাংশ ক্ষীণকায়। অপুষ্টির শিকার মা ও শিশুর সংখ্যা পূর্বের তুলনায় কমলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়। তাই মেধাবী ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে পুষ্টিকর খাদ্য যেমন ডিম ও মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমান বাড়াতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ডিম ও মুরুগির মাংস খাওয়ার পরিমান খুবই কম। জাপানের মানুষ বছরে ডিম খায় গড়ে ৬০০টি। সেখানে বাংলোদেশের মানুষ খায় গড়ে মাত্র ৪৫-৫০টি ডিম। আমরা মুরগির মাংস খাই বছরে গড়ে মাত্র ৩.৬৩ কেজি। অন্যদিকে আমেরিকার মানুষ খায় গড়ে প্রায় ৫০.১ কেজি। এ অবস্থায় আমাদের খাদ্যাভাস পরিবর্তন করা ছাড়া আমাদের পুষ্টি-চাহিদা পূরণ করার আর কোনো উপায় নেই।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার মন্ডলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ড. নিতিশ চন্দ্র দেবনাথ, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষেণা ইনিুস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন, ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির সিএসও ড. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এমএম/ এআর