বড় ধরনের পতন দিয়ে শেষ হয়েছে গত সপ্তাহের (৫ থেকে ৯ এপ্রিল) শেয়ারবাজারের লেনদেন। সপ্তাহ শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকের পতন হয়েছে ১২৬.২৪ পয়েন্টের। সপ্তাহের লেনদেন শেষে সূচক পতনের এ হার চলতি ২০১৫ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসই সূচক ৪ হাজার ৪০০ পয়েন্টের ঘর থেকে ৪ হাজার ৩০০ পয়েন্টের ঘরে নেমে এসেছে। এর আগে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে (৮ থেকে ১২ মার্চ) সর্বোচ্চ ১০৮ পয়েন্টের পতন হয়েছিল ডিএসই সূচকের।
এদিকে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৬.৩২ শতাংশ।
গত দুই মাসের বেশী সময় ধরে শেয়ারবাজারে মন্দা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা শেয়ারবাজারে মন্দার জন্য দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিন্তু শেয়ারবাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। বরং যেন উল্টোপথে হাঁটছে দেশের শেয়ারবাজার। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন।
বিনিয়োগকারীদের অনেকের অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করায় বাজারে শেয়ারের চাহিদা ও লেনদেন কমে গেছে।
ডিএসইর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ডিএসইএক্সের ৪৪৭২.১৪ পয়েন্ট দিয়ে শুরু হয়েছিল ডিএসইর লেনদেন। কিন্তু সপ্তাহ শেষে তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৩৪৫.৮৯ পয়েন্টে। অর্থাৎ সপ্তাহ শেষে সূচক কমছে ১২৬.২৪ পয়েন্ট। সূচক পতনের এ হার ২.৮২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ডিএসই সূচকের পতন হয়েছিল ৩৭.১৬ পয়েন্টের।
গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনেই সূচকের পতন হয়েছে। সূচকের পতন দিয়ে শুরু হয় সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবারের লেনদেন। সূচক পতনের এ ধারা সোম ও মঙ্গলবার বজায় থাকার পর বুধবার সূচকের সামান্য উন্নতি হয়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ফের পতন ঘটে বাজারে। এর ফলে বড় ধরনের পতন দিয়ে শেষ হয় সপ্তাহের লেনদেন।
এ ছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩১.৮৯ পয়েন্ট কমে ১৬৭১.১৭ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ২৩.১২ পয়েন্ট কমে ১০৬৫.৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেয়া অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে। মোট ৩২৩টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ২৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির দর। আর দুটির কোনো লেনদেন হয়নি। দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ইউনিক হোটেল এবং দর কমার শীর্ষে ছিল জাহিন স্পিনিং মিলস।
এদিকে আগের সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৩৫৯ কোটি ১ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে তা কমে হয়েছে ৩৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন কমার হার ৬.৩২ শতাংশ।
সপ্তাহ শেষে ডিএসই বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৪৯ কোটি টাকারও বেশী। আর সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকায়। সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন কমার হার ০.৫১ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে গত সপ্তাহে লেনদেন শুরু হওয়া ইউনাইটেড পাওয়ার। মূলত গত সপ্তাহের লেনদেনের প্রতিদিনই লেনদেনের শীর্ষস্থানটি ছিল এ কোম্পানিটি। সপ্তাহজুড়ে নতুন তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫২ কোটি ৬৩ হাজার টাকা। সপ্তাহের মোট লেনদেনের ১৪.৯৯ শতাংশই লেনদেন হয়েছে এ কোম্পানিটিকে ঘিরে। আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮.৪৭ শতাংশ লেনদেন বেড়ে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এসিআই। এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯১ কোটি ৭৮ লাখ ১০ হাজার টাকার। গত সপ্তাহের ডিএসইর মোট লেনদেনের ৫.৪৬ শতাংশই হয়েছে এ কোম্পানির। লেনদেনের তৃতীয় স্থানে থাকা ইফাদ অটোসের সপ্তাহজুড়ে ৮২ কোটি ৮০ লাখ ৮৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হল- মবিল যমুনা, শাশা ডেনিমস, গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ইউনিক হোটেল, ফার্মা এইড।
এএইচ





