খুলনা মহানগরীর মহসেন জুট মিলস লিমিটেড দীর্ঘ ১৩ মাস লে-অফ থাকার পর বৃহস্পতিবার ৬৬৭ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করে বন্ধ ঘোষণা করেছে মিল মালিক কর্তৃপক্ষ। আজ এ মিলটি লে-অফের পর চালু হওয়ার কথা ছিলো বলে মিলের শ্রমিকরা জানিয়েছেন।

মিলের সিবিএ'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান জানান, মিলের নির্বাহী পরিচালক তাওহিদউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ ছাঁটাই ও স্থায়ী বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আজ লে-অফ শেষে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এলে নিরাপত্তা রক্ষীরা শ্রমিকদের মিলে প্রবেশ করতে দেয়নি। ছাঁটাইয়ের ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে মিল গেটে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।

শ্রমিক-কর্মচারীরা আরও জানান, কর্তৃপক্ষ শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে পাওনা পরিশোধ না করেই সকল শ্রমিক কর্মচারীকে গণ ছাঁটাই করেছে।

মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সুলতান মোল্লা বলেন, শ্রম আইন লঙ্ঘন করে তাঁদের মজুরি পরিশোধ ছাড়াই মিলটির সব শ্রমিককে একযোগে ছাটাই করে মিলটি স্থায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনপ্রকার অসন্তোষ ছাড়াই শ্রমিক পূর্বেকার মজুরী নিয়েই কাজ করে যাচ্ছিলেন।

বন্ধ ঘোষণার নোটিশে উল্লেখ করা হয়, '১৭ জুলাই সকাল ৬টা থেকে বাংলদেশ শ্রম আইন ২০০৬ সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ৬৩১ জন শ্রমিক ও ৩৬ জন কর্মচারীকে চাকরি থেকে ছাটাই করা হলো। আর্থিক অচলবস্থার স্বার্থে ও ছাটাই কৃত শ্রমিক কর্মচারী গণকে আইনানুগ ক্ষতিপূরণ লে-অফ বেনিফিট/ গ্রাচ্যুইটির পাওনাদি অর্থ সংস্থান সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।

এ বিষয়ে মিলের এমডি খোরশেদ আলম বলেন, ইতিমধ্যে মিলের সর্বমোট ৩৯০ দিন লে-অফ অতিক্রম হয়েছে। কিন্তু এমতাবস্থাতেও আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের উত্পাদিত পণ্যের চাহিদা না থাকায়, উত্পাদন খরচের তুলনায় বিক্রয় মুল্য অনেক কম হওয়ায় এবং ব্যাংক লোন না পাওয়ায়, প্রয়োজনীয় কাঁচা পাট, তেল, মবিল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ইত্যাদি না থাকায় এবং বিদ্যুৎ বিলসহ শ্রমিক কর্মচারী, কর্মকর্তাদের মজুরি/বেতন পরিশোধের আর্থিক সংস্থান না থাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পুনরায় মিল চালু করা কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ অসম্ভব। যার কারণে মিলটি বন্ধের সদ্ধিান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মিলের শ্রমিক ছাঁটাই এবং স্থায়ী মিল বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে মিলের নেতা ও শ্রমিকরা দাবী আদায়ের সংগ্রাম সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সাথে আজ বেলা সাড়ে ৩টায় মহসেন শ্রমিক ক্লাবে এরশাদ আলীর সভাপতিত্বে এক জরুরী সভায় মিলিত হন।

সভায় বক্তৃতা করেন, শ্রমিক নেতা গোলাম রসুল খান, আব্দুর রহমান মোড়ল, আ. হালিম, মো. জাহিদ, নুরু ফকির, নজরুল ইসলাম প্রমুখ। সভা শেষে জুট মিলস চত্বরে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই