সোমবার সকাল নয়টার দিকেও দাউ দাউ করে জ্বলছে ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ওই পোশাক কারখানাটি। দমকল বাহিনী এখন অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়েছে।
ইস্পাতের কাঠামোর ওপর নির্মিত সাততলা ভবনটির বেশিরভাগ অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর উপজেলার বেতজুরী এলাকায় ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে ওই পোশাক কারখানায় রোববার দুপুরে আগুন লাগে। রাতভর অভিযান চালিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি দমকল বাহিনীর ১৪টি ইউনিট।
সোমবার সকাল ৮টায় গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, আগুনে ৯ তলা ভবনের ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলা ধসে গেছে। ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় মধ্যরাতেই ঘটনাস্থলের চারিদিকে মাইকিং করে লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অল্প কিছু আহতের ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্র ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, রোববার দুপুরে কারখানাটি তৃতীয় তলার গোডাউনে আগুন সূত্রপাত হয়। তখন কারখানায় খাবারের বিরতি চলায় প্রায় সকল শ্রমিক ও কর্মকর্তারা ভবনের বাইরেই অবস্থান করছিলেন। ভবনটির দক্ষিণ পাশের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে কারখানার কর্মচারীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, স্টিলের ফ্রেমের ভবন হওয়ায় উপরের তলাগুলোতে যেখানে আগুন রয়েছে সেখানে পানি আটকে রাখা যাচ্ছে না। সরবরাহ করা পানি গড়িয়ে নীচে পড়ে যাচ্ছে বলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন দমকল বাহিনীর সদস্যরা।
গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদেকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুন্নাহার বলেন, ঘটনার সময় তৃতীয় তলায় বিরতি চলছিল। এ সময় ওই তলার গুদামঘরের দক্ষিণ পাশের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে আগুনের বিষয়টি নজরে আসে।
তিনি বলেন, মুহূর্তের মধ্যে আগুন তৃতীয় তলার পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে তৃতীয় তলার গার্মেন্টসসহ সব সরঞ্জাম পুড়ে গেছে।
কেএইচ





