টানা অবরোধ ও হরতালে ৩৬ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এ হিসেবে বছরের একদিনের জিডিপি ৩ হাজার ৭০১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গত ১৬ দিনের হরতাল, অবরোধে জিডিপির ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।
যা কখনোই পুষিয়ে ওঠা যাবে না। যা ক্ষতি হওয়ার, তা হয়েছেই। এটা আর ফিরে আসবে না। হরতাল অবরোধে দেশের যে ইমেজ গেছে, কাঁচামাল পঁচে গেছে এটা আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক এ অস্থির অবস্থায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা যেখানে বিনিয়োগ করে হিমশিম খাচ্ছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা কষ্টসাধ্য হচ্ছে সেখানে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। এর সুফল প্রতিযোগী পার্শ্ববর্তী দেশগুলো নেবে এটাই স্বাভাবিক।
হোসেন খালেদ আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ২৭৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তবে প্রতিদিনের শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতায় ২৫ শতাংশ ক্ষতি ধরলে এর পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি হবে মনে করেন তিনি।
হরতাল-অবরোধে প্রতিদিনের সার্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক রফতানিতে ৬৯৫ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৩০০ কোটি টাকা, কৃষিখাতে ২৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, আবাসন খাতে ২৫০ কোটি টাকা, পর্যটন খাতে ২১০ কোটি টাকা,
পাইকারি বাজার, শপিং মল, শোরুম, ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকান খাতে ১৫০ কোটি টাকা, পোশাক খাতে ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, উৎপাদন খাতে ১০০ কোটি টাকা, স্থলবন্দর ও বঙ্গবন্ধুর সেতুর টোল আদায়ে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ৩৩ কোটি টাকা, সিরামিক খাতে ২০ কোটি টাকা, পোল্টি শিল্পে ১৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা,
প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রফতানি খাতে ১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বীমা খাতে ১৫ কোটি টাকা, হকার্স খাতে ১৫ কোটি টাকা, স্থলবন্দর আমদানি পণ্য খালাসে ১০ কোটি ৫ লাখ টাকা, হিমায়িত খাদ্য খাতে ৮ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
এ অবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে রাজনীতিবিদদের প্রতি সময়পোযগী ও যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
এআর





