বাংলাদেশ থেকে মধু আমদানি করবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত দেশ স্লোভেনিয়া। এ লক্ষ্যে স্লোভেনিয়ার ঐতিহ্যবাহী মধু উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান মেডেক্স ইতিমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি মৌচাষী ও মধু বিপণনকারীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তাসহ অন্যান্য সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে বৈঠককালে মেডেক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেসা কুন্ডুস এ কথা জানান।

অ্যালেসা কুন্ডুস বলেন, বাংলাদেশে মৌচাষের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। মৌচাষ করে বাংলাদেশের চাষিরা মধু উৎপাদনের পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনশীলতা ১০ ভাগ থেকে ২০ ভাগ বাড়াতে পারে। তিনি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও রোগবালাই প্রতিরোধে মধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

অ্যালেসা কুন্ডুস আরো বলেন, স্লোভেনিয়ায় প্রতিবছর ৩০ হাজার মেট্রিক টন মধুর চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে স্থানীয়ভাবে প্রতিবছর মাত্র ২ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হয়। অবশিষ্ট চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে মধু আমদানি করতে আগ্রহী স্লোভেনিয়া। এ লক্ষ্যে মেডেক্স (গবফবী) খুব শিগগিরই বিসিকের সঙ্গে যৌথভাবে গুণগত মানের মধু উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করবে।

বাংলাদেশ থেকে স্লোভেনিয়ার মধু আমদানির প্রস্তাবকে স্বাগত জানান শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য বৈচিত্রকরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি স্লোভেনিয়ার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে গুণগতমানের মধু উৎপাদনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। স্লোভেনিয়ার আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হলে বছরে মধুর উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফরহাদ উদ্দিন, বিসিক চেয়ারম্যান আহমদ হোসেন খান, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান মো. লুৎফর রহমান তরফদার, বিসিকের মৌচাষ প্রকল্পের পরিচালক খোন্দকার আমিনুজ্জামান, স্লোভেনিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যালেস গ্লাভান, স্লোভেনিয়ার প্রখ্যাত মৌচাষ বিশেষজ্ঞ ফ্রেন্স সিবিক উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ৪ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদিত হয়। উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ ও মৌচাষির সংখ্যার বাড়ালে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন সম্ভব বলে মৌচাষ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।