দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে সূচকে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। এ সময় সূচকপতন যেমন সামান্য হয়েছে, তেমনি বেড়েছে কম পয়েন্ট। একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ব্রড ইনডেক্স কমেছে ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। অন্যদিকে লেনদেন কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। দেশের অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে একই সময়ে সার্বিক সূচক কমেছে ১০২ পয়েন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে শেয়ারবাজার ছিল চাঙ্গা। তবে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় ফেব্রুয়ারিতে সূচক কমে। এ সময় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। ব্যাংকের বিনিয়োগ ও অর্থপাচার রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এতে বড় বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ফলে নিয়মিত সূচক কমতে শুরু করে। বর্তমানে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। তবে বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হননি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গেল সপ্তাহে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারায়। ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারি থেকে লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু করেছে। তবে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বাজারে।
বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান বাজারে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দর অতিমূল্যায়িত রয়েছে। তাই এসব শেয়ারের দর সংশোধন হলে আবারো চাঙ্গাভাব আসবে বাজারে। তাছাড়া ব্যাংকের বিনিয়োগ ও অর্থপাচার রোধে গেল সপ্তাহে নতুন নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। যার প্রভাব পড়ে বাজারে।
গেল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইএ ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স কমে ৫২ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট। এদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৭৪ কোটি টাকা। সোমবার সূচক কমে ১০ দশমিক ১১ পয়েন্ট, আর লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫০৫ কোটি টাকা। মঙ্গলবার সূচক বাড়ে ১৬ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট, লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬৩ কোটি টাকা। বুধবার সূচক কমে ৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয় ৩৫৫ কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবসে সূচক বাড়ে মাত্র ২ পয়েন্ট, লেনদেন হয় ৪১৩ কোটি টাকা।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৯৯টি কোম্পানির মোট ৩৮ কোটি ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৮টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ২ হাজার ৩১০ কোটি ২৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫টির, কমেছে ২১৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির।
গেল সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯৯ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ একই সময়ে ৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৯০ দশমিক ১২ পয়েন্টে।
দেশের অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৫১টি কোম্পানির মোট ৪ কোটি ১৮ লাখ ৫ হাজার ৯২৬টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ২০৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ১৭৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ১০২ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১৪৫৭০ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক সিএসই-৩০ একই সময়ে ৩৯ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১২৩২২ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্টে।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়-স্কয়ার ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্রামীণফোন, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল, লাফার্জ সুরমা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল, হাইডেল বার্গ সিমেন্ট, পদ্মা অয়েল ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো-রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ম্যারিকো বাংলাদেশ, রেনউইক যজ্ঞেষর, স্কয়ার টেক্সটাইল, ন্যাশনাল টিউবস, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি, স্টাইল ক্রাফাট, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন।
অন্যদিকে দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো-রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ফিন্যান্স, উত্তরা ফিন্যান্স, রহিমা ফুড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, জেমিনি সি ফুড, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও ফিনিক্স ফিন্যান্স।
[b]ঢাকা, ৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
সপ্তাহজুড়েই পুঁজিবাজারে ধীরগতি
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে সূচকে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। এ সময় সূচকপতন যেমন সামান্য হয়েছে, তেমনি বেড়েছে কম পয়েন্ট। একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)





