পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাইবান্ধার আড়াই শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী নারী কারিগর এখন টুপি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রামের গৃহবধূ, কলেজপড়ুয়া ছাত্রী ও অল্পশিক্ষিত বেকার নারীরা এখন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজ হাতে সুতা আর ক্রুসকাঁটা দিয়ে টুপি তৈরি করছেন। বাড়তি আয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা আনার স্বপ্ন দেখছেন এ সব নারী।
দরিদ্র ও বেকার নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে গাইবান্ধা জেলা সদর ও সাদুল্যাপুর উপজেলায় ৬টি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চলছে টুপি তৈরির কাজ। বিনামূল্যে টুপি তৈরির প্রশিক্ষণ ও তৈরি টুপি ক্রয় করছে সৌদিয়ান আল-আইয়ান ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি। ছিন্নমূল মহিলা সমিতির তত্ত্বাবধানে এমসিএইচ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার মেসার্স তাসলিমা ব্যাগ অ্যান্ড ক্যাপ প্রোডাকশন হাউস এ প্রকল্প পরিচালনা করছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরের মহুরীপাড়া, বিষ্ণুপুর, বল্লমঝাড় এবং সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদ্রাকপুর, পশ্চিমপাড়া ও সেবা অফিস কেন্দ্রে প্রতিদিন চলছে টুপি তৈরি প্রশিক্ষণ ও তৈরির কাজ। এ সব কেন্দ্রে আড়াই শতাধিক নারী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন টুপি তৈরিতে। একসঙ্গে সবাই বসে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে টুপি তৈরি করছেন। এখানে টুপি তৈরি হচ্ছে শুধু হাতের কাজে। সুতা আর ক্রুসকাঁটা দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন নকশা সুতার টুপি।
মেসার্স তাসলিমা ব্যাগ অ্যান্ড ক্যাপ প্রোডাকশন হাউসের জেলা ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন বলেন, দরিদ্র নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার জন্যই এই সুতার টুপি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। টুপি তৈরির জন্য নারীদের বিনামূল্যে সুতা ও ক্রুসকাঁটা সরবরাহ করা হয়েছে। নারীরা কেন্দ্রে ও নিজ বাড়িতে বসে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি টুপি তৈরি করে নারী কারিগররা পান ২০ টাকা। এ সব টুপি রফতানি হবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। টুপির চাহিদা সারাবছর থাকলেও ঈদ মৌসুমে বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন ৬টি কেন্দ্রের নারী কারিগররা।
প্রশিক্ষক সাধনা মোহন্ত ও দিলারা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে নারীরা নিজেরাই টুপি তৈরির কাজ করছেন। নারীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি এ সব টুপি দেখতে আকর্ষণীয়। এর মূল্য অনেক কম। এলাকার অনেক গৃহবধূ ও কলেজছাত্রী এখন লেখাপড়ার ফাঁকেঅবসর সময়ে টুপি তৈরি করছেন। বাড়তি আয় হিসেবে সংসারে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা আসবে।
টুপির কারিগর জান্নাতি সুরাইয়া বলেন, তার দরিদ্র বাবার পক্ষে জামাকাপড়সহ লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হয় না। তাই প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন নিজেই টুপি তৈরি করছেন। প্রতিটি টুপি তৈরি করে পান ২০ টাকা। সপ্তাহে ৭ থেকে ১০টা টুপি তৈরি করেন তিনি।
সেবার নির্বাহী পরিচালক মাহাবুল আলম হারুন বলেন, ঈদকে ঘিরে শুধু তার কেন্দ্রে ৪০ জন নারী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি টুপি তৈরি করছেন। প্রতিদিন এখানে ৮০ থেকে ১২০টি টুপি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দরিদ্র বেকার নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের আগামীতে একটি সেলাই মেশিন, একটি এমব্রয়ডারি মেশিন, একটি আইপিএস ও মেশিন টুলবক্স বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
ঢাকা, ২০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





