[b]ঢাকা: [/b]বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে মূল্যসংকোচনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি নিয়ে ‘আশাবাদের সুর বাতাসে’ এখন। তবে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনো পলকা।
গত মঙ্গলবার এক আলোচনায় আইএমএফ-প্রধান বলেন, মূল্যস্ফীতি যদি ‘জিন’ হয়, মূল্যসংকোচনকে ‘শয়তান’ বলা যায়, যা অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। মূল্যসংকোচনের ঝুঁকি এখন বাড়ছে, যেটা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংক গত বুধবার জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, যদিও এখনো তা ঝুঁকিমুক্ত নয়।
মূল্যস্ফীতি বাড়লে ভোক্তার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। আর মূল্যসংকোচন ভোক্তা ব্যয় কমিয়ে দেয়। কারণ তখন তারা দাম আরো কমার অপেক্ষায় থাকে। তাতে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হয়। কারণ ঋণ ব্যয়ও বেড়ে যায় এ পরিস্থিতিতে।
ইউরো অঞ্চলে মূল্যসংকোচন আস্তানা গাড়ছে কিনা, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্ক হচ্ছে। কারণ ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও সেখানে ধারাবাহিকভাবে মূলস্ফীতির হার কম থাকছে। শুধু ইউরো অঞ্চল নয়, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ উন্নত অর্থনীতিগুলোয় মূল্যস্ফীতি কমবেশি ১ শতাংশেই ঘুরপাক খাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ২ শতাংশের কম মূল্যস্ফীতিকে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের পথে একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। লাগার্দে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের (ফেড) আর্থিক প্রণোদনা ক্রমান্বয়ে হ্রাসের সিদ্ধান্তও অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক পথেই হাঁটছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে সার্বিক প্রবৃদ্ধি এখনো যথেষ্ট কম, ঝুঁকিপূর্ণ ও অসম।
প্রতি মাসে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড বা অন্যান্য সরকারি ঋণপত্র কিনে বাড়তি মুদ্রা সরবরাহ করে আসছিল ফেড। চলতি মাস থেকে তা কমিয়ে আনা শুরু হয়েছে। জানুয়ারিতে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড কিনছে তারা। আগামী মাসগুলোয় এ প্রণোদনা ধীরে ধীরে কমিয়ে একপর্যায়ে তা তুলে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে শেষ পর্যন্ত সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে এ পদক্ষেপ। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির ওপর। তাদের সুদের হার এমনিতেই তুলনামূলক বেশি। বৈশ্বিক বাস্তবতায় তা আরো বেড়ে গেলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া উন্নয়নশীল বাজারগুলোয় পুঁজিপ্রবাহে অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিময় হার, আর্থিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রাজিল, তুরস্ক, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এ তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণেও বলা হয়, ফেডের প্রণোদনা প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সংকট বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, উন্নত-উন্নয়নশীল সব দেশেই প্রবৃদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে অন্তর্নিহিত ঝুঁকিগুলো বৈশ্বিক পুনরুদ্ধারে হুমকি হিসেবে রয়েই যাচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নত অর্থনীতিগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও সহায়ক হবে। তবে সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দারিদ্র্য বিমোচনের হার বাড়াতে হবে। এজন্য কাঠামোগত সংস্কার, কর্মসৃজন, আর্থিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
চলতি বছর বৈশ্বিক জিডিপি ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক; গত বছর তা ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তাদের হিসাবে, বর্ধিত প্রবৃদ্ধির মূল উত্স হবে উন্নত অর্থনীতিগুলো। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি গত বছরের ৪ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে ২০১৪ সালে।
লাগার্দে বলেন, ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও চলতি বছর তা অর্জন করতে পারবে না বিশ্ব অর্থনীতি। মূল্যসংকোচনের ঝুঁকি মোকাবেলায় মুদ্রা সরবরাহ যেন কমানো না হয়, সে বিষয়ে মত দেন তিনি। সূত্র:বিবিসি ও রয়টার্স।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
অর্থনীতি
আইএমএফ প্রধানের সতর্কবার্তায় মূল্য সংকোচনের ঝুঁকি
ঢাকা: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে মূল্যসংকোচনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি নিয়ে ‘আশাবাদের সুর বাতাসে’ এখন। তবে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনো পলকা।





