অসহ্য গরমে ওষ্ঠাগত নগরবাসীর প্রাণ। এই গরমে মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো বাজারেও বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।
শনিবার রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেখা গেছে, গরমের সবজি ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করলা, উস্তা, পেপে, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, জালি কুমড়া, লাউ, শসা ও পুঁইশাকের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। তবে কিছুটা কমেছে আদার দাম। চাষিরা পেঁয়াজ রাখি করার জন্য সংগ্রহ করছে বলে বাজারে এর সরবরাহ কম। এছাড়া পেঁয়াজ পুরোনো হওয়ার সাথে সাথে এর দাম বাড়ে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে আদার আমদানি ভালো হওয়ায় কমেছে এ পণ্যটির দাম।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার পাইকারি বাজারে ফরিদপুরের হালি পেঁয়াজ ২৬ থেকে ২৭ টাকা, মেহেরপুরের হলান পেঁয়াজ ১৮ থেকে ১৯ টাকা, এবং ভারতের নাসিক পেঁয়াজ ১৯ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছিল ফরিদপুরের হালি পেঁয়াজ ২৩ থেকে ২৫ টাকা, মেহেরপুরের হলান পেঁয়াজ ১৭ থেকে ১৮ টাকা এবং ভারতের নাসিক পেঁয়াজ ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে, ভারতের ক্যারেলা আদার আমদানি বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারে আদার দাম কমেছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে ভারতের ক্যারেলা আদা ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ার আদা ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও চায়না আদা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে চায়না রসুন ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা এবং দেশি রসুন ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মশলাজাত পণ্য আদার দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আদার আমদানি খুব কম হচ্ছে, যার কারণে দাম এত বেশি। আগামীতে দাম কমের দিকেই থাকবে বলেও জানান তারা। এ ছাড়া বাজারে শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় ও রসুন ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, গরম বাড়ার সাথে সাথে কিছু কিছু পণ্যের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তাছাড়া বেশি দামে পণ্য কিনে অনেক সময় তা সংরক্ষণ করে রাখতে হয় বলে অনেক পন্য নষ্ট হয়ে যায়। আর এসবের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাধ্য হয়েই আমাদের দাম বেশি রাখতে হয়।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৩৫ টাকা, গোল বেগুন ৪০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, আলু ১৬ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, উস্তা ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, বরবটি ৩৫ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, বড় মিষ্টিকুমড়া ৬০ থেকে ১৫০ টাকা ও লাউ ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতিহালি কাঁচকলা ৩০ টাকা ও লেবু ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বাজারে লালশাক, ডাটা, পুঁইশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পুদিনাপাতা ১০০ গ্রাম ২০ টাকা, ধনেপাতা প্রতি ২৫০ গ্রাম ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৬ টাকা, চায়না বড় রসুন ৭৫ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা, একদানা রসুন ১৩০ টাকা, চায়না আদা ২৫০ টাকা, অন্যান্য আদা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, লতা আটাশ ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, মোটা চাল ৩৫ টাকা, জিরা নাজির ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, চিনি গুঁড়া ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, পারিজা ৩৫ টাকা, বিআর-২৮-৪২ টাকা, বিআর-২৯-৪২ টাকা, হাসকি ৪২ টাকা, স্বর্ণা ৩৫ টাকা থেকে ৩৬ টাকা, লাল বিরই ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির লাল ও সাদা ডিম ২৫ টাকা, হাঁসের ডিম ৩৫ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৪০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৩৮ টাকা হালি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০ টাকা, রুই মাছ ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা, চায়না পুঁটি ১৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০ টাকা, চিংড়ি (বড়) ৯০০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ টাকা, শিং মাছ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, নলা মাছ ২২০ টাকা, কার্ফু মাছ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৩০০ টাকা, খাসির মাংস ৪৮০ টাকা দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৫০ টাকা, হাঁস ৩০০ টাকা, ভেড়া ও ছাগীর মাংস ৪০০ টাকা এবং কবুতরের বাচ্চা ২০০ টাকা জোড়া হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
[b]ঢাকা, ২৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
নিত্যপণ্যের বাজারেও বৈশাখের উত্তাপ
অসহ্য গরমে ওষ্ঠাগত নগরবাসীর প্রাণ। এই গরমে মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো বাজারেও বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। শনিবার রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেখা গেছে, গরমের সবজি ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করলা, উস্তা, পেপে, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, জালি কুমড়া, লাউ, শসা ও পুঁইশাকের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে





