আবুল মাল আবদুল মুহিতবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি রোধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের (নিউইয়র্ক ফেড) যেমন গাফিলতি ছিল, তেমনি আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক মাধ্যম সুইফট ব্যবস্থায়ও ত্রুটি ছিল।
সিএনবিসি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমন অভিমত দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির এ ঘটনায় মামলা হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
রিজার্ভ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা করার কোনো সুযোগ আছে কি না, সিএনবিসির এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো আছে (মে বি)। আমি স্পষ্ট করেই বলেছি, দায়িত্ব পালনে যাদের গাফিলতি ছিল, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।’
সিএনবিসি গত বুধবার বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের এ সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরিচালনা পর্ষদের ৪৯তম বার্ষিক সভায় যোগদান উপলক্ষে অর্থমন্ত্রী গত রোববার থেকে সেখানে রয়েছেন। এডিবির চার দিনব্যাপী সভাটি গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। আজ অর্থমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা।
আবুল মাল আবদুল মুহিত সিএনবিসিকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে এখন তদন্ত চলছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট। আপনারা জানেন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক হচ্ছে বিশ্বের এক রকম কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যাংকের বিগত ৭০-৮০ বছরের ইতিহাসে এমন ধরনের ঘটনা আর ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তে আমি জানতে পেরেছি, এ ঘটনা সংঘটনের প্রক্রিয়াটি চলেছে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে।’
তবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনায় ফেডারেল রিজার্ভ জড়িত ছিল না। কিন্তু তারা আমাদের জনগণের স্বার্থকে অবহেলা করেছে। তারা হয়তো রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি ঠেকাতে পারত।’
সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফটের প্রযুক্তি-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘সুইফট শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই প্রচলিত একটি পদ্ধতি। তবে আমরা সুইফট কার্যক্রমে ত্রুটির প্রমাণ পেয়েছি। আর এটি ছিল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি।’
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট বা হিসাব থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি (৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে) মোট ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। সাইবার হামলা ঠেকানোর মতো ফায়ারওয়াল না থাকায় এবং সুইফটের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সুইচের দুর্বলতার কারণে এ অর্থ চুরি হয়েছে।
এর মধ্যে ফিলিপাইনে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায়। বাকি ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা থেকে ২ কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ফিরে এসেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আর অপরাধীদের কাছ থেকে আদায় হওয়া ১ কোটি ডলারের মতো অর্থ ফিলিপাইন সরকারের কাছে জমা রয়েছে।
এমআর





