খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে মনোযোগ দেবে সরকার। ওই অঞ্চলের উন্নয়নে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দেওয়া হবে সব ধরনের সহায়তা। রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, খাদ্য নিরাপত্তায় দেশের দক্ষিণাঞ্চল একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের জন্য প্রণীত মহাপরিকল্পনা’ শীর্ষক উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। বৈঠকে ইউএনডিপি, জাপান, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, অর্থসঙ্কটে ১০ বছরের কৃষি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এ পরিকল্পনায় মোট বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের এডিপি রবাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার এবং উন্নয়ন সহযোগীরা বিনিয়োগ করছে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। এখনো অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ।
এ প্রেক্ষাপটে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দাতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্ব অনেক। কৃষি উন্নয়ন থেকে শুরু করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক গুরুত্ব বহন করে। তবে এখানে এখনও অনেক সমস্যা রয়েছে। পানির লবণাক্ততা, নাব্যতা ও বন্যাসহ প্রাকৃতিকভাবে অনেক সমস্যার মধ্যেও এ অঞ্চলটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।
এ প্রেক্ষিত্রে অর্থমন্ত্রী মুহিত জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে নানাবিধ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং সামনে নতুন করে আরও কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সেই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার অংশ হিসেবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় গৃহীত মহাপরিকল্পনা সফলভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালে দক্ষিণ অঞ্চলকে দেশের সামগ্রিক কৃষির অন্যতম সফল অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। মহাপরিকল্পনাটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মানুষদের খাদ্য ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ জুলাই কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং তৎকালীন পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের এই মহাপরিকল্পনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
পরিকল্পনাটির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের ১৪টি জেলায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জনগণের জীবন মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এজন্য উপকূলীয় অঞ্চলের এসব জেলায় কৃষিনির্ভর খাতসমূহের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। যা দশ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মহাপরিকল্পনাটির বাস্তবায়নে মোট ৫৭ হাজার ৮২৬ কোটি টাকার প্রয়োজন। মোট চারটি পর্যায়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দশটি ক্ষেত্রে ২৬টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৮৫টি প্রযুক্তিকৌশল চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে অগ্রাধিকারভূক্ত খাত হিসেবে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পুষ্টি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পোল্ডার ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি বাণিজ্য, কৃষি ঋণ ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের ১৪টি জেলায় (সাতক্ষিরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্রগ্রাম এবং কক্সবাজার) কৃষিনির্ভর খাতসমূহের উন্নয়নের জন্য প্রণীত এ মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রায় ৫৭ হাজার ৮২৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এতে টপ, হাই, মিডিয়াম এবং লো- এ চারটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ১০টি ক্ষেত্রে ২৬টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৮৫টি প্রযুক্তিকৌশল চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ১০ বছর।
[b]ঢাকা, ১৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]