ধারাবাহিকভাবে কমছে রেমিটেন্স। আগের মাসের ধারাবাহিকতায় নতুন বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিটেন্স কম এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের এসেছে ১১৬ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। আর জানুয়ারিতে এসেছিল ১২৬ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। জানুয়ারি তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিটেন্স কম এসেছে।
জানা যায়, চলতি ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্ত রেমিটেন্সের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে ৩৮টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্ত রেমিটেন্সের পরিমাণ ৭৬ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের তুলনায় বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি। একই সময়ে বিশেষায়িত এবং বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতে আসা ৭৬ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারের মধ্যে আল-আরাফাহ ৪৭ লাখ ৭০ হাজার, এবি ব্যাংক ২ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার, কমার্স ব্যাংক ৩ লাখ, ব্যাংক এশিয়া ৪ কোটি ৫ লাখ ৮০ হাজার, ব্র্যাক ব্যাংক ৩ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার, ঢাকা ব্যাংক ১ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার, ডাচ্-বাংলা ২ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার, ইস্টার্ন ব্যাংক ৬৭ লাখ ৮০ হাজার, এক্সিম ব্যাংক ২১ লাখ ২০ হাজার, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ২৭ লাখ ৫০ হাজার, আইএফআইসি ৪৬ লাখ ১০ হাজার, ইসলামী ব্যাংক ৩০ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার, যমুনা ব্যাংক ৬৬ লাখ ৯০ হাজার, মার্কেন্টাইল ১ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার, এমটিবি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার, ন্যাশনাল ৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার, এনসিসি ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার, ওয়ান ব্যাংক ১০ লাখ ৩০ হাজার, প্রাইম ২ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার, পূবালী ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার, শাহজালাল ৫ লাখ ৫০ হাজার, এসআইবিএল ৭৫ লাখ ৩০ হাজার, সাউথইস্ট ২ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার, স্ট্যান্ডার্ড ৪৭ লাখ ৪০ হাজার, দি সিটি ব্যাংক ২ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার, প্রিমিয়ার ৪৫ লাখ ৩০ হাজার, ট্রাস্ট ব্যাংক ১ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার, ইউসিবিএল ৭৭ লাখ ৮০ হাজার, উত্তরা ৪ কোটি ২৪ লাখ, আইসিবি ১ লাখ মার্কিন ডলার। নতুন অনুমতি পাওয়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কোনো রেমিটেন্সের আসেনি।
এদিকে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে একই সময়ে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ২ হাজার ৯৪০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বা ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার । এ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার, জনতা ১০ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার, সোনালী ১২ কোটি ৫ লাখ ৮০ হাজার ও রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার এসেছে। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ১০৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
একই সাথে বিদেশী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১১০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এসব ব্যাংকের মধ্যে কমার্স ব্যাংক অব সিলন ৫ লাখ ৭০ হাজার, সিটি ব্যাংক-এনএ ২ লাখ ৫০ হাজার, এইচএসবিসি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার, ব্যাংক আল ফালাহ ২০ হাজার, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ৫৮ লাখ ৬০ হাজার, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ২০ হাজার ও উরি ১৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। এদিকে বিদেশী হাবিব ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনো রেমিটেন্স আসেনি।
তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির প্রথম ৭ দিনে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে রেমিটেন্স এসেছে ৩২ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এর পরবর্তী ৭ দিনে রেমিটেন্স এসেছে ৩৩ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর পরবর্তী ৭ দিনে রেমিটেন্স এসেছে ২৭ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৭ দিনে এসেছে ২৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
এদিকে চলতি অর্থবছরে জানুয়ারিতে রেমিটেন্স এসেছে ১২৫ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে ১২১ কোটি ২ লাখ ১০ হাজার, নভেম্বরে ১০৬ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার, অক্টোবরে ১২৩ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ১০২ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার, আগস্ট মাসে ১০০ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার, জুলাইয়ে ১২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে।
[b]ঢাকা, ৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]