বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিগত বছরে তা ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির নতুন এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান ও এস কে সুর চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমি, প্রধান অর্থনীতিবিদ ফয়সাল আহমেদ, প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মুদ্রানীতিতে সতর্কাবস্থা থাকছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি জাতীয় বাজেটে ঘোষিত ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ও ৫ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সীমিত রাখার লক্ষ্যে ঘোষিত হয়।

সরকার ঘোষিত লক্ষ্য দুটি অর্জনের পথ ঠিক থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য কর্মসূচিগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অভ্যন্তরীণ ঋণ বিতরণ ও বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। সরকারকে দেয়ার জন্য ঋণের যে জোগান রাখা হয় সরকার তা গ্রহণ করেনি, উল্টো ১৮ হাজার ২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করেছে।

প্রসঙ্গত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি বছর দুইবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। ছয় মাস পরপর এ মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে প্রকাশ করা হয়।

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
জেড