বিসিক স্থাপিত জামদানি শিল্পনগরিতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে যেসব উদ্যোক্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিল্প স্থাপন করবে না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পের প্রসারে সরকার নারায়ণগঞ্জ জেলার তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপাড়ায় ২০ একর জমির ওপর জামদানি শিল্পনগরি ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত শিল্পনগরিতে ৪শ’ ০৯টি শিল্প প্লট গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩শ’ ৯৯টি প্লট জামদানি শিল্প উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

শিল্পমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিসিক আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী জামদানি প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।

শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, পরিচালক (নক্শা ও বিপণন) নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের জামদানি শিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকার সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে। ইংরেজ শাসনের নেতিবাচক প্রভাবে মসলিনের ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও স্বাধীনতাত্তোর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৃহিত উদ্যোগের ফল হিসেবে বাংলাদেশের জামদানি শিল্প ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। এ শিল্পখাত থেকে বছরে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রপ্তানি হচ্ছে। তিনি দেশিয় জামদানি শিল্পের টেকসই বিকাশে গবেষণা জোরদারের পরামর্শ দেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বাংলাদেশের জামদানি ইতোমধ্যে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (ওয়ার্ল্ড কালচারাল হেরিটেজ) অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ নিয়ে ভারতের আপত্তি থাকলেও জামদানি উৎপাদনে গুণগতমানের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের সমকক্ষ হতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জামদানি কোনো আরোপিত শিল্প নয়। হাজার বছর ধরে বাংলাদেশে জামদানি তৈরি হচ্ছে। একটি বিশেষ জনগোষ্ঠির শিল্প ভাবনা থেকে জামদানি ওঠে এসেছে। তিনি জামদানি শিল্পখাতের গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিসিকের ডিজাইন সেন্টার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

পরে শিল্পমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এসময় সংস্কৃতিমন্ত্রী, শিল্পসচিবসহ অন্য ঊর্ধ¦তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য, ৭দিন ব্যাপী আয়োজিত এ প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর জন্য কোনো প্রবেশ মূল্য প্রয়োজন হবে না।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর