ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসই নিন্মমূখী থাকার কারণে নিন্মমূখী ছিল মূল্যসূচক। পাশপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমান। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত কমেছে ১.১৩ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিনিয়োগকারীরা জানান, শেয়ারবাজারে নিম্নগতির লেনদেনের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এরপরও প্রতি সপ্তাহে লেনদেন কমে যাচ্ছে। আর এ কমার কারণে বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বড় বিনিয়োগকারীরাও হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন। এ সংকট উত্তরণে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। গুজবে কান না দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সচেতনভাবে বিনিয়োগ করতে হবে।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সার্বিক পিই দাঁড়িয়েছে ১৫.৯৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও ছিল ১৬.১৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ সপ্তাহ শেষে পিই কমেছে ০.১৮ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ।
এদিকে আগের সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে পিই ও লেনদেন কমার পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৩০৮টি কোম্পানির শেয়ার ও
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৯টির, দর কমেছে ২৪৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৩ টির।
আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৩০৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৭টির, দর কমেছে ১৪০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮ টির।
পিই নির্ভর করে দর বাড়া-কমার ওপর। সার্বিক পিই কিছুটা কমলেও বর্তমানে বাজার বিনিয়োগের উপযোগী বলে মত প্রকাশ করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের ধারণা, বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ কার্যদিবসই মূল্যসূচক কমেছে। এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে লেনদেনের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। এ কারণে শেয়ার লেনদেন কমেছে।
শুধু গেল সপ্তাহে লেনদেন গড় ছিল ১৯২ কোটি টাকা। এর আগের ৩ সপ্তাহের লেনদেনের গড় ছিল ৩০০ কোটি। তাই মাসজুড়ে নিন্মমুখী লেনদেনে হতাশা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের।
এ প্রসঙ্গে বিনিয়োগকারীরা জানান, কয়েক মাস লেনদেন নিম্নমুখী হওয়ার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট সবাই। সবাই আখের গোছাতে ব্যস্ত। তাই নিন্মমুখী লেনদেনে হতাশায় রয়েছেন তারা।
বিনিয়োগকারীরা জানান, একটি মহল শেয়ারবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে তৎপর রয়েছে। তারা বিভিন্ন গুজব ছড়াচ্ছে। তাই এ মহলটিকে নিয়ন্ত্রণে বিএসইসি ও ডিএসইকে সক্রিয় হতে হবে। নতুবা শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আসবে না।
ঢাকা, ১২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





