আসছে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ-১৪২১ কে বরণ করতে প্রস্ততি নিচ্ছে নগরবাসী। আর বৈশাখী উপহার কিনতে তাই নগরীর বিপনী বিতানগুলোতে ভীড় লক্ষ করা গেছে। শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে বৈশাখী বাণিজ্য।
তবে বাঙালির সর্ববৃহৎ এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বাজারে নতুন কোনো বৈশাখী পোশাক না আসায় হতাশ ক্রেতারা। অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় সব ধরনের পোশাকের দাম বাড়ায় বিক্রি অনেকটাই মন্দা বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
রোববার বৈশাখী কেনাকাটার শেষ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেটসহ ফুটপাতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিক্রেতারা প্রস্তুতি নেন পহেলা বৈশাখকে ঘিরে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর মার্চ মাসের শেষের দিক থেকেই কেনাকাটার ধুম পড়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে বৈশাখী উৎসবের অনুষঙ্গগুলোর। লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে গয়না, ছোটদের বাহারি পোশাকে সাজা আমাদের নগর জীবনের অংশ হয়ে গেছে।
গাউছিয়া মার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী অমিতাব খান টাইমনিউজ বিডিকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে পহেলা বৈশাখে নতুন পোশাকের বেচাকেনা ভালো। তাই আমাদের প্রস্তুতিও নিতে হয় সেভাবে। এবারো কেনাকাটা ভালো হয়েছে। মহিলারা তাদের পছন্দের পোশাক ক্রয় করছেন। তবে গতবারের চেয়ে বিক্রি মন্দা বলে জানান তিনি।
গত কয়েক বছর ধরেই বৈশাখে লাল সাদার পাশাপাশি এই ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আকাশী, গোলাপি, সবুজ সহ বিভিন্ন হালকা রঙ্গের পোশাকও জনপ্রিয় উঠছে। উৎসবমুখর এই বৈশাখে শাড়ির পাশাপাশি মেয়েদের সালোয়ার কামিজ পড়ার চলও বাড়ছে।
মৌচাক মার্কটের ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন টাইমনিউজকে বলেন, বৈশাখ মানেই হচ্ছে লাল-সাদা কিন্ত এখন একটু ভিন্নতা এসেছে। যে যার রুচি অনুযায়ী, পছন্দের যে কোন রঙের পোশাক পড়ছে।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করার মাধ্যমেই আসে উৎসবের পূর্ণতা। আর তাই অনেকেই পুরো পরিবার নিয়ে এসেছেন বৈশাখী কেনাকাটায়।
নিউমার্কেটে বৈশাখীর পোশাক কিনতে আসা শাবানা ইয়াসমিন টাইমনিউজকে বলেন, প্রতিবছর নববর্র্ষে নতুন পোশাক ক্রয় করি। এবারো স্বামী ও সন্তানের জন্য পোশাক কিনেছি। তবে গতবারের চেয়ে এবার দামটা একটু বেশি বলে জানালেন শাবানা। আর বৈশাখকে কেন্দ্র করে নতুন কোন ডিজাইনও না আসায় এর প্রভাব বিক্রিতে পরেছে বলেই মনে করনে বিক্রেতারা।
একজন বিক্রেতা বলেন, বিকিকিনি ভালো না। ক্রেতা শুধু নতুনত্ব চায়। এতো নতুনত্ব পাবো কোথায়।
অপর একজন বিক্রেতা বলেন, বেশির ভাগ পোশাকের দাম বেশি কিন্ত বৈশাখী কেনাকাটায় ক্রেতাদের বাজেট কম হওয়ায় বিক্রি কম।
গত কয়েক বছর ধরে শপিংমলের পাশাপাশি বুটিক শপগুলোতে বেড়েছে ভিড়। শপিংমলের চেয়ে বুটিক শপগুলোর প্রস্তুতিও থাকে বেশি। এসব শপের পোশাকগুলোতে ডিজাইন করা হয় দেশীয় ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে। একই সঙ্গে থাকে আবহাওয়া উপযোগী করে পোশাক তৈরির চিন্তাও।
আজিজ সুপারের বুটিক শপ ফানুসের সানজিদ টাইমনিউজকে জানান, পুরো বছর ধরেই আমরা পহেলা বৈশাখের জন্য তৈরি হই। এখন এই উৎসবটা সব শ্রেণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী উৎসবে অংশ নেয়। ফলে দিন দিন বাড়ছে বিক্রির পরিমাণ।
এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে চারুকলায় বসেছে ছাত্রছাত্রীদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর মেলা। চারুকলা ইনস্টিটিউটের বারান্দায় উন্মুক্ত স্টলে একদিকে ছাত্রছাত্রীরা এগুলো তৈরি করছে, অন্যদিকে চলছে বিক্রি। সরা, স্কার্ফ, টি-শার্ট, মাটির তৈরি ব্যাঙ, হাতি, ঘোড়া, পুতুল ও কলমদানি নিতেও ক্রেতারা ভিড় করছেন। দেশজ আলপনা ও সাজের কারণে বিক্রি প্রচুর। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ থাকে দেশি ঐতিহ্যে লালিত কোনো প্রাণীর প্রতিকৃতি।
মাটির গয়না কিনতে শিশু একাডেমীর সামনে এসেছেন সিদ্ধেশ্বরী থেকে আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের সাজে মাটির গয়না অন্যরকম এক মাত্রা যোগ করে। সে জন্যই মাটির গয়না কিনতে আসা। পোশাক ও গয়নার সঙ্গে ঘর সাজানোর অনুষঙ্গও বাদ পড়ছে না কেনার তালিকা থেকে। বাঙালির সর্বজনীন এই উৎসব উপলক্ষে ঘর সাজানোর জন্য মাটি, বেত ও বাঁশের তৈরি আসবাবের দিকেই বেশি ঝোঁক নগরবাসীর।
১৯৬৫ সাল থেকে রমনার বটমূলে প্রতি বছর ছায়ানট বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু করলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানমালা নগরীতে নতুন তাৎপর্য পায়। বাঙালির চিরায়ত উৎসবের দিন পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে হালখাতা। মিষ্টিমুখ করানো হবে ক্রেতাদের। প্রতি বছরের মতো এবারো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ দিনটি উদযাপন করবে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এবারো রাজধানীতে জমে উঠেছে বৈশাখী বাণিজ্য।
ফ্যাশন হাউসগুলোতে বৈশাখী সাজের টি-শার্ট, শাড়ির বিক্রি জমজমাট। বৈশাখের ব্যবসায় পিছিয়ে নেই নগরের ফুটপাত। বিপণিবিতানগুলো নববর্ষের নানা পসরা নিয়ে বসেছে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়াসহ নারী-পুরুষ-শিশুদের সব ধরনের পোশাকে বৈশাখী ছোঁয়া এনেছে দেশের স্বনামধন্য ডিজাইনাররা। ফুল-পাখি, নদী ও প্রকৃতি তো আছেই, সঙ্গে থাকছে ঢোল-তবলা, সরা-প্রতিমা ও কবিতার নকশাও।
নারীদের জন্য বর্ণিল শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও স্কার্ট-টপসসহ নানা পোশাক। শিশুদের জন্য বর্ণিল শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, শার্ট, টি-শার্টে ঠাসা শোরুমগুলো। পুরুষদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। বাংলা বর্ষবরণের এই সার্বজনীন উৎসবে নিজেকে রাঙ্গাতে এখন ব্যস্ত সবাই। সব প্রস্তুতি শেষে সোমবার পহেলা বৈশাখে নতুন সূর্যকে বরণ করে আরো একটি ঐতিহাসিক নববর্ষের সাক্ষী হয়ে থাকবেন নগরবাসী।
[b]ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
বৈশাখী জ্বরে আক্রান্ত নগরবাসী
আসছে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ-১৪২১ কে বরণ করতে প্রস্ততি নিচ্ছে নগরবাসী। আর বৈশাখী উপহার কিনতে তাই নগরীর বিপনী বিতানগুলোতে ভীড় লক্ষ করা গেছে। শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে বৈশাখী বাণিজ্য। রোববার বৈশাখী কেনাকাটার শেষ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেটসহ ফুটপাতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিক্রেতারা প্রস্তুতি নেন পহেলা বৈশাখকে ঘিরে।





