আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইসলামি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে সংশোধিত ইসলামি বন্ডের নিলাম। জানা গেছে, এ লক্ষ্যে সব ইসলামী ব্যাংক ও শরিয়া ভিত্তিতে পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোন পদ্ধতিতে সরকার এ বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেবে সে বিষয় নিয়ে ব্যাংকগুলোর সাথে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান বন্ড বাতিল করা হবে। এ বন্ডের তহবিলে থাকা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বন্ডের নিলামের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিতে পারবে না সরকার।
জানা গেছে, সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে দু’টি পদ্ধতিতে ঋণ নিয়ে থাকে। একটি ট্রেজারি বিল ও আরেকটি ট্রেজারি বন্ড। ট্রেজারি বিলের মেয়াদ হয় স্বল্পমেয়াদি অর্থাৎ এক বছর আর বন্ড হয় দীর্ঘমেয়াদি। বর্তমানে চার মেয়াদে অর্থাৎ ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ড রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এসব বন্ডের অপারেটর হিসেবে কাজ করে। সরকারের ঋণের জোগান দেয়ার জন্য আগাম কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহেই বন্ডের নিলামের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে ঋণের জোগান দিতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইসলামি বিনিয়োগ বন্ডের মাধ্যমে সরকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ইসলামি বিনিয়োগ বন্ডকে আরো আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়। চলতি মাসের গোড়ার দিকে তা সংশোধন করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে সার্কুলার আকারে ব্যাংকগুলোকে অবহিত করেছে।
বন্ডের সংশোধিত নীতিমালায় সরকারের ঋণ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। প্রচলিত বন্ডের মতো মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে ইসলামি বন্ডের উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নিলামের নীতিমালা সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবর্তন করতে পারবে। একই সাথে সরকার শরিয়াহ অনুমোদিত বিশেষ উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট খাত বা সম্পদ ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদি ইসলামি বন্ড উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইস্যু করতে পারবে।
ইসলামি ব্যাংকগুলো অর্থ সঙ্কটে পড়লে ইসলামি বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে অথবা অন্য কোনো ইসলামী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান দেশে ব্যাংকিং খাতের মোট সম্পদের মধ্যে ২১ শতাংশই রয়েছে ইসলামি ব্যাংকগুলোর। ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও একটি পৃথক মুদ্রাবাজার না থাকায় ইসলামি ব্যাংকিং খাতের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মতো ইসলামী ব্যাংক আন্তঃব্যাংক লেনদেন করতে পারলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সঙ্কট কেটে যাবে। আগামী জানুয়ারি থেকেই এ বন্ডের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





