জনগণের করের টাকায় বছরের পর বছর ধরে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন যোগান দিয়ে আসছে সরকার। সাত বছরে জাতীয় বাজেট থেকে দেয়া হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অব্যবস্থাপনায় বেরিয়ে গেছে এর পুরো অর্থই। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বরাদ্দ দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। এই ধারা বন্ধ না হলে অনিয়ম আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকের মধ্যে ৫৩৯৭ কোটি টাকা মূলধন হারিয়ে শীর্ষে সোনালী ব্যাংক। এরপর রয়েছে বেসিক, রুপালী ও জনতা। বিশেষায়িত মধ্যে ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা হারিয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

৬টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৭ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ৫ হাজার ৩৯৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার ৬৫৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, রুপালী ব্যাংকের ৬৩৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ১৬১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৮১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এমন অবস্থায় প্রতিবছর সরকারি ব্যাংকগুলোকে বাজেট থেকে দেয়া হয় মূলধনের ঘাটতি পূরণে বরাদ্দের নামে লাইফ সাপোর্ট। সরকারের এ ধরনের প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসা উচিৎ বলে মনে করেন সিপিডির গবেষক মোয়াজ্জেম হোসেন।

সরকারের অর্থবিভাগের তথ্য মতে, পাঁচ অর্থবছর আগেও বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫০০ কোটির ঘরে। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে তিন অর্থবছর বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০০ কোটির উপর। পরবর্তীতে ২০১৬-১৭ ও ১৭-১৮ অর্থবছর দেয়া হয় পর্যায়ক্রমে ৩১৯ ও ২০০০ কোটি টাকা।

৭ বছরে ব্যাংক খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি। চলতি বছরের বরাদ্দ ও আসছে বাজেটেও এর পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবছর এ ধরণের বরাদ্দকে অনৈতিক বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, ক্ষতি হলে সেটা সরকার পুষিয়ে দেবে; এমন ভাবনা খুবই ক্ষতিকর। আমাদের সার্বিক ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য এটা বড় চিন্তার বিষয়।

ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কমাতে সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএম