বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জব্দ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)।  বুধবার রাজধানীর ইস্কাটনের বিসিএস কর একাডেমিতে ই-টিআইএন সেবা সেন্টারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন এ কথা জানান।
এনবিআর’র তথ্যমতে, ২০০৭ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০০৭ সালের শেষ দিকে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ২৪২ জনের তালিকা করে ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এ তালিকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও ছিলেন। গত মেয়াদে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরই তাঁর হিসাব খুলে দেওয়া হয়। তবে সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান এনবিআরের তৎকালীন সিআইসি প্রধানের কাছে খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে আবেদন করেন। তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আবেদনপত্রটিসহ খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব এবং এ-সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন করা হলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হবে না বন্ধ রাখা হবে তা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে- মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ শুধু এনবিআর বাস্তবায়ন করবে। গত বছর বাজেট পূর্ববর্তী সময়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘খালেদার ব্যাংক হিসাব আপাতত খুলবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ব্যাংক হিসাব জব্দ সম্পর্কিত এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুসারে, রাজস্ব ফাঁকি, বেআইনি কাজে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের আইনি অধিকার রাখে সিআইসি। এ ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। একইভাবে জব্দ হিসাব খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্র্থ মন্ত্রণালয় বা সরকারি কোনো সংস্থার বা এনবিআর চেয়ারম্যানের লিখিত অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
এনবিআর গোয়েন্দা শাখা সূত্র জানায়, গত সাত বছরের বেশি সময়ে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো তদন্ত, যাচাই বা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়নি এনবিআরকে। ফাইলবন্দি হয়েই আছে বিষয়টি। এ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়ন চলে। কিছুদিন আগে এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবীর একাধিক বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এসব ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত ফাইল অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
[b]ঢাকা, ৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]