আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদবাজার। তবে ক্রেতাদের পছন্দের পোশাকের যোগান দিতে পারছেন না বিক্রেতারা। তাছাড়া এবারের ঈদ ঘিরে পোশাকের ডিজাইনেও তেমন নতুনত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। একারণে বিক্রেতাদের মনও ভালো নেই। ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকী থাকলেও জমে ওঠেনি এবারের ঈদ মার্কেট।

রাজধানীর যেকোন মার্কেটে প্রবেশ করলেই বোঝা যায় ঈদ খুবই সন্নিকটে। দিন হিসাবে ঈদের বাকি আর মাত্র তের দিন। তাই ঈদের খুশীকে আরো প্রসার করতে সাধ্যমতো সবাই নতুন জামা কাপড় কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের পছন্দমতো পোশাক খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে। আর সেই ছোঁয়াটা যেন একটু বেশিই লেগেছে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে। এখানকার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্যাশান হাউজ মানিইয়াভার বাংলাদেশ (Manyavar Bangladesh) এর সহকারি ম্যানেজার মেহেদি হাসান শাকিল ঈদ বাজার নিয়ে কথা বলেন টাইমনিউজবিডি'র সঙ্গে।

তিনি বলেন, ঈদের বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার কোন কমতি নেই। পছন্দের মাত্রাটাও বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের প্রোডাকশন কম। তাই ক্রেতাদের সমাগমের পাশাপশি তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদার পোশাক আমরা দিতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাশান ডিজাইন কোম্পানী থেকে আমাদের প্রোডাকশন চাহিদা মত হচ্ছে না। নতুন ডিজাইনের প্রোডাকশন হচ্ছে না। অর্থাৎ ডিজাইনে নতুননত্ব না থাকলে ক্রেতারাও চাহিদা মেটাতে পারছে না। মনের মত পাচ্ছে না।

ফ্যাশান হাউজগুলো ক্রেতাদের চাহিদা মিটাতে না পারলেও জুতার দোকানগুলোতে এখনো চাহিদার হিসেব আনেকটা দূরে। লোট্টো (Lotto) জুতা কোম্পানীর বসুন্ধরা শাখার ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আহমেদ টাইমনিউজবিডি'কে জানান, ঈদের কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের যে উপচে পড়া ভিড় সেটা এখনো শুরু হয়নি। তবে গতকাল (শুক্রবার) ছুটির দিন হওয়ায় সেই ভিড়টা একটু মনে হয়েছিলো।

তার দাবি, ঈদে মূলত জুতার কেনাকাটা একটু দেরিতেই শুরু হয়। সাবই শার্ট, পাঞ্জাবীসহ সকল কেনাকাটা শেষে জুতার কেনাকাটা করে। সেই হিসেবে জুতার কেনাকাটা এখনো শুরু হয়নি।

বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। তাদের অনেকেই বলছেন গত বছরের তুলনায় এবছর ঈদের কেনাকাটা একটু কম। সেটার কারণ হিসেবে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঈদ হওয়াকেই দায়ি করছেন ফ্যাশান মালিকরা। এমনটিই বলছিলেন ফ্যাশান বাজারের ব্র্যান্ড কোম্পানী রিচ ম্যানের (Rich Man) ইনচার্জ মো. ফায়সাল।

টাইমনিউজবিডি'কে তিনি বলেন, এবছর ঈদটা এমন সময়ে পড়েছে যখন সময়টা মাসের অর্ধেক। ক্রেতাদের বেতন বা ঈদের বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে একটু দেরি হচ্ছে। আর সেই জন্যই মার্কেটে ক্রেতাদের সমাগম এখন পর্যন্ত পাচ্ছি না।

তবে অধিকাংশ ক্রেতাই জিনিসপত্র যাচাই বাছাই করছে। এখনো অধিকাংশ অফিসগুলোতে বোনাস হয়নি। বেতন বোনাস পাওয়ার পরই মূলত মার্কেটগুলোতে পুরোদমে কেনাকাটা শুরু হবে বলে তার দাবি।

আবার অনেকেই বলছেন সবে মাত্র পনের রোজা পার হলো। তাই ঈদের কেনাকাটার যে চাপ সেটা এখনো শুরু হয়নি। ফ্যাশান জগতের ব্র্যান্ড কোম্পানী ক্যাটস আইয়ের (Cats Eay) বসুন্ধরা শাখার ম্যানেজার মো. মোস্তফা কামাল টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, গতকাল (শুক্রবার) ছুটির দিন হওয়ায় একটু চাপ পরিলক্ষিত হয়েছিলো। তবে ১৫-১৭ রোজা পার হওয়ার পর থেকেই মূলত কেনাকাটার চাপ বাড়তে পারে বলে তার দাবি। 

বসুন্ধরা সিটিতে ছেলেদের পাঞ্জাবী, শার্ট ও টি-শার্টেসহ সকল পণ্যের মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা আছে। তবে পাঞ্জাবী, শার্ট, টি-শার্টের পাশাপাশি লেডিস কর্ণারগুলোতে একটু বেশিই ভিড় লক্ষ করা গেছে।  

কেনাকাটা করতে আসা অনেকেই পোশাকের ভিন্নতা নিয়ে অভিযোগ করছেন। সহধর্মিনীকে সাথে নিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন ফার্স্ট সিকিইরিটি ইসলামি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিন।

তিনি টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দাম একটু বেশিই মনে হচ্ছে। দাম বেশি হলেও সমস্যা ছিলো না যদি পোশাকে ভিন্নতা পেতাম। আগের তুলনায় পোশাকে তেমন নতুনত্ব পাচ্ছি না।

আবার অনেকেই অভিযোগ করছেন ঈদ উপলক্ষে সকল পণ্যের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন আহমেদ তার ছোট দুই ছেলে-মেয়েকে সথে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন বসুন্ধরা সিটিতে।

টাইমনিউজবিডি'কে তিনি বলেন, আমি এখান থেকেই কেনাকাটা করি। তবে ঈদ উপলক্ষে একটু দাম বেশিই মনে হচ্ছে। অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় বসুন্ধরা মার্কেটে অন্তত এক হাজার টাকা পার্থক্য।

ঈদের কেনাকাটায় পাঞ্জাবীর কদর শীর্ষে রয়েছে। ঈদের নামায আদায় করার জন্য পায়জামা-পাঞ্জাবী ও টুপি সবাই সংগ্রহে রাখে। আর এ জন্য মার্কেটগুলোতে অন্যান্য কেনাকাটার সাথে পায়জামা-পাঞ্জাবীও ক্রয় করছে।

রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নিউ এলিফ্যান্ট রোড এলাকার পাঞ্জাবীর দোকানগুলোতে বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। এসব দোকানে শর্ট ও লং পাঞ্জাবীসহ বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে। দোকানে পাঞ্জাবীর মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা আছে। সর্বনিম্ন ৮শ' টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঞ্জাবীর দাম রাখা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তেমনই ভিড় লক্ষ কারা গেছে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার দোকানগুলোতে। এছাড়াও রাজধানীর পল্টন, গুলিস্থান, ফার্মগেটসহ ধানমন্ডি মোহাম্মাদপুর এলাকা এবং মিরপুরের বেনারশি পল্লীসহ মিরপুর এলাকার কয়েকটি মার্কেট বেশ জমে উঠতে শুরু করেছে।

মার্কেট ও বিপণীবিতানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতেও কেনাকাটায় বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পল্টন, মতিঝিল, গুলিস্তান, মালিবাগ, নিউ মার্কেট, ফার্মগেট, মিরপুর-১০ ও মহাখালিসহ রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাতে পাঞ্জাবীসহ সকল ধরনের পণ্যের দোকান বসেছে। এসব দোকানগুলোতে নিন্ম মধ্যবিত্ত লোকজনের ভিড় বেশি লক্ষ করা গেছে।

তবে অধিকাংশ ক্রেতারাই অভিযোগ করেছেন, ভালো মানসম্মত পণ্যের দাম অনেক বেশি। মার্কেট অনুযায়ী দামেরও তারতম্য রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এমআর/ এআর